চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে বন্যহাতির হাত থেকে পাকা ধান রক্ষায় পাহারা দিতে গিয়ে নেজাম উদ্দিন (৫০) নামে এক চাষি নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। হামলাকারীরা তার দুই হাত কনুই থেকে কেটে ফেলে রেখে যায়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সড়ক থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেজাম উদ্দিন রাতে মীরেরখীল কালিছড়ি ব্রিজ-সংলগ্ন মাতব্বর বাড়ির পাশের ক্ষেতে ধান পাহারা দিতে গিয়েছিলেন। সকালে বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে সড়কের মাঝখানে বৃষ্টির পানিতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তখন তার দুই হাত কনুই থেকে কাটা ছিল।
নিহত নেজাম উদ্দিন মীরেরখীল স্লুইস গেট এলাকার রফু মিয়ার ছেলে। তিনি দিনমজুর ছিলেন। চাষাবাদের পাশাপাশি গাছ কাটার কাজ করতেন।
নিহতের ছোট ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই একজন নিরীহ চাষা ও গাছ কাটার শ্রমিক ছিলেন। তাকে কেন, কী কারণে এমন নৃশংসভাবে খুন করা হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কারা, কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না; তদন্ত শেষে জানা যাবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক মাসে সরফভাটা গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় একাধিক ব্যক্তি কুপিয়ে জখম হয়েছেন। এর আগে রাতের আঁধারে একটি ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত মানুষকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। তাদের দাবি, গত দুই বছরে রাঙ্গুনিয়ায় ২০টির বেশি খুন হয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি এই ইউনিয়নেই। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, সন্ত্রাসীদের উৎপাতে মীরেরখীলসহ আশপাশের গ্রামের শত শত পরিবার এলাকাছাড়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকে মামলা করার সাহস পান না বলে চিহ্নিত অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকার নেতৃত্ব ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের আদলে সরফভাটায় চিরুনি বা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অপরাধীচক্রকে দমনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কেকে/এআই