কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরানথানা এলাকার সামাদ প্লাজার দ্বিতীয় তলায় ‘ফোন প্লেক্স’ নামে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দোকানমালিকের দাবি, দোকান থেকে নগদ ৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫১টি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা জানাজানি হলে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, দারোয়ান নিয়োগ ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে মার্কেট কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে দারোয়ানসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে।
দোকানমালিক আহম্মদউল্লাহ শুভ জানান, সামাদ প্লাজার দ্বিতীয় তলার ৪ নম্বর দোকানে তিনি পুরোনো মোবাইল ফোন কেনাবেচা করেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান তিনি। পরদিন মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে দোকানে এসে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখতে পান। দোকানের দুটি শাটারের একটিতে নতুন তালা লাগানো ছিল। অন্য শাটারের তালা খুলে ভেতরে ঢুকে তিনি মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে ক্যাশবাক্স ও দোকানে রাখা মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।
দোকানমালিকের দাবি, ক্যাশবাক্সে রাখা নগদ ৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, ১১টি আইফোন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪০টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মালামাল উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের দাবিতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫৭ মিনিট থেকে ৭টার মধ্যে ৬-৭ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি দোকানটিতে প্রবেশ করেন। ফুটেজে তাদের মধ্যে একজনকে প্রথমে দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়, পরে দারোয়ান তাকে নিয়ে ওপরে উঠলে বাকিরা ভিতরে ঢুকে মালামাল নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনার পর মার্কেটের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দারোয়ান নিয়োগ ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এমনকি নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ দিতেও রাজি ছিলেন। কিন্তু তাদের দাবি অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মার্কেটের আই পয়েন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের মালিক আকিব বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজন থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে না আসার বিষয়টি দুঃখজনক।’
টাইম গ্যালারির মালিক অপূর্ব বলেন, ‘চার মাস ধরে দারোয়ান নিয়োগ ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছি। প্রয়োজনে দোকানভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতেও রাজি ছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়েছে, কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।’
ব্যবসায়ীরা জানান, একটি বাণিজ্যিক মার্কেটে মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক পণ্য ও নগদ টাকা থাকে। তাই মার্কেটের প্রবেশপথ, দোকানের শাটার ও তালার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। তারা চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সামাদ আবাসিক হোটেলের দারোয়ান শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে এক ব্যক্তি আমার কাছে এসে রুম ভাড়া চান। পরে তাদের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি দুজন বলে জানান। এরপর তাদের একটি রুম দেখিয়ে দিই। পরে ওপরতলায় গিয়ে দেখি, যিনি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন, তিনি রুমে নেই এবং রুমটি তালাবদ্ধ। পরে আমি বাড়িতে চলে গেলে ফোনে জানতে পারি, মার্কেটের একটি দোকানে চুরি হয়েছে। খবর পেয়ে এসে দেখি, দোকানের মালামাল চুরি হয়ে গেছে। রুম ভাড়া নেওয়া ওই ব্যক্তি নিজেকে ময়মনসিংহ থেকে এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন।’
এ বিষয়ে সামাদ আবাসিক হোটেল ও মার্কেটের মালিক ইমতিয়াজ বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটের দিকে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে দেখা গেছে। ফুটেজে একজনকে চাবি দিয়ে তালা খুলতে দেখা যায় বলে মনে হচ্ছে। মার্কেটে দারোয়ানসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও এমন ঘটনায় আমরা দুঃখিত এবং দোকানমালিকদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করবেন। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর সামাদ প্লাজার পাঁচতলায় নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিক নিহত হন। তারা হলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত জিনারাই গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৪) এবং হোসেনপুর উপজেলার সাব্বির (২৫)। একই মার্কেটে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মার্কেটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
কেকে/এআই