সুন্দরবনের নদী-খাল ও জলাশয়ে প্লাস্টিক-পলিথিনের দূষণ কমাতে ঘর থেকেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় খুলনার কয়রা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নয়ন এবং দূষণ হ্রাস’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের সহযোগিতায় কর্মশালার আয়োজন করে ইয়ুথ ফর সুন্দরবন কয়রা শাখা।
বক্তারা বলেন, ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেললে তা নদী ও জলাশয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনে গিয়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। তাই কর্মশালার মূল আহ্বান—কয়রার প্রতিটি বাড়িতে প্লাস্টিক বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ ও নিরাপদে অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহম্মেদের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ-আল বাকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক কুমার ঘোষ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ্বাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কেএম মফিজুর রহমান, সাংবাদিক রিয়াছাদ আলী ও কামাল হোসেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নদী, খাল ও জলাশয়ে প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলার কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ দূষণ রোধে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি বাড়িতে বর্জ্য আলাদা করে সংরক্ষণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তরা আরও বলেন, পলিথিনের বিকল্প হিসেবে কেনাকাটায় কাপড় ও পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের পরিবেশ সুরক্ষার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। সুন্দরবন রক্ষায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
কেকে/এআই