মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় প্রায় আড়াই বছর ধরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নায়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদই শূন্য থাকায় সংস্থাটির সেবা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে করে উপজেলার কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিএডিসির আওতায় কৃষকদের সেচ সুবিধা প্রদান, উন্নত বীজ বিতরণ এবং কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারটি পদ নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় অফিসটির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে বলা চলে।
সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শূন্য পদগুলো হলো সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক (পিয়ন)। এসব পদে কোন জনবল না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ মাঠ পর্যায়ের সেবা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এ দিকে স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিএডিসির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা সেচ সুবিধা ও উন্নত বীজ সংগ্রহ করতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আলীনগর ইউনিয়নের কৃষক আলম মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি গত ২-৩ মাস ধরে বিএডিসি অফিসে কতবার আইলাম, কিন্তু কোন কাজ হয় না। অফিস বন্ধ থাকায় কোন সেবা পাই নাই। সেচ পাম্পের বিষয়ে কোনো সহযোগিতা পাইলাম না। বীজের ব্যাপারেও কোনো খবর নাই। কবে যে এই ভোগান্তি যাইবে আল্লাহ্ জানে।’
অফিস বন্ধ থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদারীপুর জেলা বিএডিসি কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ হলে কার্যক্রম আবার স্বাাভাবিক হবে বলে আশা করছি।
আড়াই বছর ধরে উপজেলা বিএডিসির অফিসে চারজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাই সেই ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী দিপক চন্দ্র রায় বলেন, এই প্রশ্নের আমি কোনো উত্তর দিতে পারব না। কেন উত্তর দিতে পারবেন না? প্রশ্ন করলে তিনি কল কেটে দেন।
এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস বলেন, ‘বর্তমানে বিএডিসির নিয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে। এমপি মহোদয়ের ডিওর মাধ্যমে এই নিয়োগের থেকেই জনবল নিয়োগ দেওয়ার জোর চেষ্টা আমরা চালাচ্ছি।’
কেকে/এআই