বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● জাপানের সঙ্গে ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা সই বাংলাদেশের      ● বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী জাপান      ● ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২      ● হাম উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু      ● ঢাকা-সৌদি রুটে ১৫৩ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে ২২ হাজারের বেশি যাত্রী      ● কাজাখস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক জয়      ● ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের: প্রধানমন্ত্রী      
জাতীয়
ফ্যাসিস্ট-রাজাকার এক হয়ে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ফ্যাসিস্ট ও রাজাকার একত্রিত হয়ে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ব্যাপারে জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে হবে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রক্ষা করতে হবে।’

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা পরিষদ মাঠে রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) ও শক্তি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মোবাইল হেলথ ক্লিনিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।’

পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এসব হাসপাতালে ১০টি করে মেশিন নিয়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। সেখানে স্থানীয়ভাবে ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিসের সেবা নিতে পারবেন। পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন সেবার জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের জন্য ২০টি শয্যা রাখা হবে। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার এবং উন্নত মানের প্যাথলজি সেবার ব্যবস্থাও থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে ডরমিটরিসহ তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব ভবনে চিকিৎসকদের থাকার ব্যবস্থা থাকবে। এ প্রকল্পের দরপত্রও একই সময়ে আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।’

প্রতিটি ইউনিয়নের অধীন পুরোনো ওয়ার্ডে একটি করে মেডিকেল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এসব কেন্দ্রে মিডওয়াইফরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রে নারীদের স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে স্ক্রিনিং, রক্ত পরীক্ষা, জ্বর এবং উচ্চ ও নিম্ন রক্তচাপ পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। রোগীদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য কার্ড দেওয়া হবে। রোগের ধরণ ও জটিলতা অনুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং সর্বশেষ বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে এক হাজার ১০০টির বেশি ডায়ালাইসিস মেশিনের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে। যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ৬০টি মেশিন থাকবে। আর যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ নেই, সেখানে জেলা হাসপাতালে ১০টি মেশিন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতের জনবল সংকট কমাতে নতুন নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ১ নভেম্বর সাড়ে চারশ চিকিৎসক যোগ দেবেন। আরও পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সাক্ষাৎকার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছর ৪১ হাজার ৩৯১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানান তিনি। এসব স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।

উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় প্রতিটি উপজেলায় ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সেগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর আর কোনো সরকার এ খাতে উল্লেখযোগ্য নজর দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সাত মাস পার হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে চার মাস এমনিতেই চলে গেছে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যখাতের সব সেবার মান উন্নত করা সম্ভব নয়। বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্যখাতে লুটপাটের কারণে এ খাতের অবস্থা নিম্নমুখী হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার স্বাস্থ্যখাতকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। কোটি কোটি টাকার মালামাল কেনার নামে লুটপাট করা হয়েছে। এসব মালামাল এখন কোনো কাজে আসছে না, বরং ভাঙারির কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে। টেন্ডারের নামেও লুটপাট হয়েছে।’

স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে বর্তমান সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্র বিগত সরকারের সময় তৈরি হয়েছে। এ কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিকের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে যেসব ক্লিনিকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যে সকল চিকিৎসক বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন, তাদের ফ্যাসিস্ট বলে উপাধি দিয়েছেন এবং তাদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কসবায় আসার পথে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। এ সময় পাঁচজন চিকিৎসক বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। কসবা এলাকায় আমি যুদ্ধ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশ স্বাধীন করেছি বলেই মুশফিকুর রহমান সচিব হয়েছেন, এমপি হয়েছেন, এমনকি আমরাও এমপি-মন্ত্রী হয়েছি। কেউ সেনাপতি হয়েছেন, সরকারি বড় বড় কর্মকর্তা হয়েছেন। এমনকি মহিলারাও বড় বড় দায়িত্ব পেয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। মোবাইল হেলথ ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।

কসবা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ফাহিম, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি সাইদ হায়দার, শক্তি ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদ, রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মেহবিন রহমান মুনিয়া ও পরিচালক তারিফ জামিল রহমান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াছ, যুগ্ম-সম্পাদক প্রকৌশলী নাজমুল হুদা খন্দকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফ্যাসিস্ট   রাজাকার   গণতন্ত্র   অগ্রযাত্রা   ব্যাহত   স্বাস্থ্যমন্ত্রী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close