মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় টেটাবিদ্ধসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন টেংগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের ছোট ভাই আতাউর (৪০), ভাতিজা বাইজিদ (১৪) এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সোহেল (৪১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান রিপন ও সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের মধ্যে একসময় সুসম্পর্ক থাকলেও কয়েক বছর আগে তারা পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। গত ইউনিয়ন পরিষদ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয়ভাবে অন্তত পাঁচবার সালিশ বৈঠক হলেও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, তিনি পেশায় একজন আড়তদার। বুধবার রাতে আড়তের বেচাকেনা শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে জাকির প্রধানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালান। তার দাবি, ইউপি সদস্য রিপনের অনুসারী সানজিদ, রিমন, রিফাত ও শাহজালালসহ ৮ থেকে ১০ জন টেটা, রামদা ও ছুরি নিয়ে তার ওপর হামলা করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাণভয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে তিনি স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে তার স্বজনেরা সেখানে গেলে ছোট ভাই আতাউরকে টেটাবিদ্ধ করা হয়। আতাউরকে রক্ষা করতে তার ছেলে বাইজিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সোহেল এগিয়ে গেলে তাদেরও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান রিপনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহত বাইজিদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, টেটাবিদ্ধ আতাউর ও কুপিয়ে আহত সোহেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাহজালাল ও রিফাত নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কেকে/সাশ