ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজের ভোট দেওয়ার পর জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ফয়সল আমীন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে তার প্রত্যাশা, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে এবং ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
আবহাওয়া কিছুটা খারাপ হলেও ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির এই প্রার্থী। তিনি বলেন, জয়ের বিষয়ে তিনি শতভাগ আশাবাদী। তবে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত এবং সেই মতামত প্রত্যাখ্যান করার কোনো সুযোগ নেই।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৮, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
তিন উপজেলায় মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।
এবারের উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
ফয়সল আমীন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই এবং জেলা বিএনপির সভাপতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার দুপুর থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়। ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলও জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ সদস্য এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য। পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
এ ছাড়া চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ মোট ১৭৭ জন দেশি ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকের নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার কথা রয়েছে।
কেকে/এআই