ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার ভাতিজা মো. হযরত আলী মন্ডলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ২৪ অক্টোবর (শনিবার) ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছা. জাহানারা বেগম বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান কর্মকারপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত হযরত আলী মন্ডল বৈলাজান গ্রামের মো. জয়নাল আলী মন্ডলের ছেলে। তিনি পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, হযরত আলী মন্ডল ও আদম ব্যবসায়ী খোরশেদ আলী দীর্ঘদিন ধরে জাহানারা বেগমকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ক্ষতিসাধন ও হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে জাহানারাকে স্বামীর ঘরে একা পেয়ে মো. হযরত আলী জাপটে ধরেন। এ সময় তার কাপড়চোপড় টানাহেঁচড়া করে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। জাহানারার চিৎকারে হযরত আলী পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সরেজমিনে কথা হলে ভুক্তভোগী জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, হযরত আলী ও খোরশেদ আলী মিথ্যা মামলা দিয়ে তার স্বামীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। কুপ্রস্তাবে রাজি হলে তার স্বামীকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। প্রস্তাবে রাজি না হলে তার স্বামীকে কারাগারে পচে মরতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাহানারা।
তিনি আরও জানান, তার স্বামী দুলাল মিয়া বিদেশি মুদ্রার লেনদেনসংক্রান্ত একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। স্বামীকে দ্রুত জামিনে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে হযরত আলী তাকে ঘরে একা পেয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ জানান, তার শাশুড়ির সঙ্গে হযরত আলী অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গত দুই দিন ধরে তাঁর শাশুড়ি বাড়িতে নেই এবং অভিযোগ জানাতে থানায় গেছেন বলেও জানান তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর বিচার দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তের হুমকির কারণে তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হযরত আলী বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। জাহানারার স্বামী বিদেশি মুদ্রার লেনদেনসংক্রান্ত মামলায় কারাগারে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, জাহানারার ঘরে যেতে চাননি; বরং তাকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ বলেন, ‘যুবদলসহ সব অঙ্গসংগঠনই এখন ফারুক সাহেবের হয়ে গেছে। আমি বিএনপির রাজনীতি নিয়ে থাকি। বিষয়টি আমার জানা নেই।’
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/ এমএস