বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● চার দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী      ● এলপিজির কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব, বাড়তে পারে সিলিন্ডারের দাম      ● দুই ঘণ্টা পর মিরপুর-১০ ছাড়লেন পোশাকশ্রমিকেরা, যান চলাচল স্বাভাবিক      ● মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড      ● ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন : জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বিএনপি প্রার্থী      ● তেল-গ্যাসে নাভিশ্বাস      ● ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন : শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, লড়াইয়ে ৫ প্রার্থী      
দেশজুড়ে
কক্সবাজারে একের পর এক দুর্ঘটনা, উদ্বেগে পর্যটন খাত
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও স্পর্শকাতর ঘটনায় অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে উখিয়ার ইনানী ও মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিক দুর্ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু, গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস ও আগুনের ফুলকি বের হওয়া এবং সর্বশেষ ইনানী সৈকতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় পর্যটন খাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এরই মধ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অভিযান পর্যটন খাতে প্রভাব ফেলেছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই প্রশাসনের জোরদার অভিযান চোখে পড়ে। অথচ কক্সবাজারে এক হাজারের বেশি অবৈধ হোটেল-মোটেল থাকার অভিযোগ থাকলেও এত বছরে সেগুলোর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য আইনগত পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাই দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু

গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সমুদ্রের তীব্র বাতাসে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের কয়েকজনসহ মোট ১০ পর্যটক দগ্ধ হয়ে মারা যান।

তদন্তে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত রিসোর্টটিতে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা ও জরুরি নির্গমনপথ ছিল না। মর্মান্তিক এ ঘটনার ১০ দিন পর সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় উখিয়া থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। তবে মামলায় তুলনামূলক হালকা ধারা প্রয়োগের অভিযোগে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তলব করেছেন আদালত।

নলকূপ খননের সময় গ্যাস ও আগুনের ফুলকি

রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইনানীর জালিয়াপালংয়ের ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় একটি বসতবাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় আরেকটি ঘটনা ঘটে। প্রায় এক হাজার ফুট গভীর খননের পর হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ভূগর্ভ থেকে উচ্চ চাপে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস ও আগুনের ফুলকি বের হতে শুরু করে।

ঘটনার পর ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্তে ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে। তবে দুই দিন পার হলেও সুনির্দিষ্ট কারণ বা স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মাটির নিচে উচ্চচাপের ভারী হাইড্রোকার্বন গ্যাস থাকতে পারে। চাপ বেশি থাকায় জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে বিস্ফোরণ বা ভূমিধসের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঝুঁকি এড়াতে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ইনানী সৈকতে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

কক্সবাজারের উত্তাল সাগরে গোসল করতে নেমে পর্যটকদের নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনা থামছে না। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ইনানী সৈকতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসার ১৬ শিক্ষার্থী গোসল করতে নামে। এ সময় তীব্র স্রোতে তারা ভেসে যেতে থাকে।

বিচকর্মী ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মো. শান্ত (১৫) নামের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সৈকতের উত্তর পয়েন্ট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পর্যাপ্ত লাইফগার্ড ও নজরদারির অভাবে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে নামছেন পর্যটকেরা। সম্প্রতি পেচারদ্বীপ সৈকতেও সাগরে গোসল করতে নেমে একাধিক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পর্যটকের চাপ বেশি, লাইফগার্ড কম

টানা ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি সমাগম সুগন্ধা পয়েন্টে। লাইফগার্ডদের হিসাবে, সেখানে সাগরে নামছেন লাখেরও বেশি পর্যটক। অথচ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র আটজন লাইফগার্ড। অর্থাৎ প্রতি ১২ হাজার ৫০০ পর্যটকের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন একজন লাইফগার্ড।

সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সাগরে নেমে ভেসে যাওয়ার সময় ১ হাজার ২০০ পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৫ জন।

সৈকতের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পর্যটকদের বাড়তি চাপ রয়েছে। ভিড় রয়েছে অন্যান্য পয়েন্টেও। তবে পর্যটকদের অভিযোগ, সমুদ্রে গোসলের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মী নেই। কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাও চোখে পড়ে না।

সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মী আব্দুর রশীদ বলেন, বর্তমানে সুগন্ধা বিচে আটজন লাইফগার্ড দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হলেও তাঁদের তুলনায় লাইফগার্ডের সংখ্যা অনেক কম। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়ই অসুস্থ পর্যটকদের হাসপাতালে নিতে হয়। এ সময় নানা প্রতিকূলতা ও মানুষের বিরূপ মন্তব্যের মুখেও পড়তে হয় তাঁদের। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও লাইফগার্ডরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে সরকারকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।

পর্যটক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সমুদ্রে গোসল করতে নেমে অনেকের প্রাণহানি ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহও উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। তাই কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

পর্যটক সোয়েব ইফতিখারের অভিযোগ, সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মী নেই। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়া সহজ হতো। এ জন্য প্রশাসনের আরও নজরদারি প্রয়োজন।

পর্যটক হারুন অর রশিদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই সৈকতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।

পেচারদ্বীপে একাধিক পর্যটকের মৃত্যু

এদিকে পেচারদ্বীপ সৈকতে সাগরে নেমে একাধিক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হিমছড়ি পয়েন্টে দুই দলের কয়েকজন পর্যটক সাগরে গোসল করতে নেমে স্রোতে ভেসে যান। তাদের মধ্যে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে ও সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিখোঁজ বাকি দুজনকে উদ্ধার করা হয়।

পর্যটকদের সাগরে নামার আগে লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেন মো. ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, যে স্থানে গোসল করতে নামবেন, সেখানে লাইফগার্ডের নিরাপত্তাসেবা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে। যেখানে এ সেবা নেই, সেখানে কোনোভাবেই সাগরে নামা উচিত নয়।

নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি পর্যটন ব্যবসায়ীদের

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতজুড়ে লাইফগার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

হোটেল কক্স-টুডের মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, পর্যটকেরা মূলত সমুদ্রসৈকত উপভোগ করতেই কক্সবাজারে আসেন। তাই শৈবাল পয়েন্ট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পুরো সৈকত এলাকায় লাইফগার্ডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সৈকতে নিরাপত্তাবেষ্টনী ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়, যা তাঁদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প সম্পর্কেও বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই পর্যটকদের নির্বিঘ্নে সৈকত উপভোগের সুযোগ করে দিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে কার্যকর সতর্কতাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালানো নয়, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগাম নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করাও জরুরি।

বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ

কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের অধীনে একটি বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের অভিযোগ, সভা-সেমিনারে কমিটির কার্যক্রম দেখা গেলেও বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।

ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সতর্কবার্তা না থাকা এবং অনুমোদনহীন ঝুঁকিপূর্ণ কটেজ-রিসোর্ট গড়ে ওঠার পেছনে কমিটির নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, কমিটির কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও কার্যকর করতে হবে, যাতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসন বিষয়গুলো দেখছে। বৃহস্পতিবার সৈকতে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুর বিষয়টিও তিনি জানতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনটি স্থানে লাইফগার্ড কাজ করছেন। পর্যাপ্ত লাইফগার্ড না থাকায় সব জায়গায় তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায়, সমস্যার সমাধান হবে। অন্যদিকে ইনানীতে মাটি থেকে আগুনের ফুলকি বের হওয়ার ঘটনায় বাপেক্স কাজ করছে এবং জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদারকি করছে।

উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে সৈকত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে গ্যাস ও আগুনের ফুলকি বের হওয়ার ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং অবৈধ হোটেল-রিসোর্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। 

তাদের মতে, পর্যটন নগরীর ভাবমূর্তি ও পর্যটকদের জীবন রক্ষায় দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগাম সতর্কতা, পর্যাপ্ত জনবল এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  কক্সবাজার   দুর্ঘটনা   পর্যটন খাত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close