রাজবাড়ীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের ২২ দিনে ৭২ জেলেকে আটক করেছে প্রশাসন। তাদের মধ্যে ৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ২৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে জরিমানা আদায় ও জব্দ করা নৌকা নিলামে বিক্রি করে মোট ২ লাখ ৮৬ হাজার ১০০ টাকা আয় হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক এসব তথ্য জানান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ২৭৮ কেজি ইলিশ মাছ এবং ১৬ লাখ ৫৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। পরে জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং ইলিশ মাছ অসহায়, দুস্থ ব্যক্তি ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
অভিযান চলাকালে ৯৭টি অভিযান ও ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এতে আটক জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। জরিমানা থেকে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং জব্দ করা নৌকা নিলামে বিক্রি করে ১ লাখ ১০০ টাকা আয় হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে শেষ হয়। এ সময় রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর প্রায় ৫৭ কিলোমিটার অংশে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালানো হয়। জেলা ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা ও কালুখালী উপজেলা পদ্মা নদীবেষ্টিত। তবে বালিয়াকান্দি উপজেলায় পদ্মা নদী নেই।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় নদীতে মাছ ধরতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। তবে অভিযান চলাকালে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, নজরদারিতে শিথিলতার সুযোগে নিষেধাজ্ঞার সময়ও পদ্মায় অবাধে ইলিশ শিকার হয়েছে। ধরা পড়া মাছের বড় অংশ নদীর তীরেই বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
২০২৫ সালে রাজবাড়ীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ১৭২টি অভিযান এবং ৫৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছিল। সে সময় ১৭১ জেলেকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয়েছিল ১ হাজার ১১৮ কেজি ইলিশ এবং ৩০ লাখ ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল। জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ৫ কোটি ৮৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
গত বছর জরিমানা থেকে ১ লাখ ২২ হাজার ২০০ টাকা এবং জব্দ করা নৌকা নিলামে বিক্রি করে ৯৭ হাজার টাকা আয় হয়েছিল।
তুলনামূলক হিসাবে, চলতি বছর অভিযানের সংখ্যা, আটক জেলে, জব্দ করা ইলিশ ও কারেন্ট জালের পরিমাণ—সবই গত বছরের তুলনায় কম।
কেকে/সাশ