টেকসই কৃষি উন্নয়নে উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব প্লান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (বিএসপিএসটি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছেত মিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী (২৯-৩০ অক্টোবর) বিএসপিএসটির পঞ্চম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক ড. বাছেত মিয়া বলেন, গবেষণাগারের জ্ঞানকে কৃষকের মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করতে পারলেই গবেষণার প্রকৃত সুফল মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছেত মিয়া আরও বলেন, টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে উদ্ভিদবিজ্ঞানের গবেষণা ও প্রযুক্তিকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গবেষণার অর্জন তখনই সার্থক হবে, যখন তা কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশের সুরক্ষা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখবে।
আয়োজকদের তথ্যমতে, বাংলাদেশসহ ১২টি দেশের প্রায় ৩৫০ জন গবেষক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও পেশাজীবী এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনের ২০টি কারিগরি অধিবেশনে মোট ২৬৫টি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মৌখিক ও পোস্টার উপস্থাপনা, আমন্ত্রিত বক্তাদের বক্তব্য এবং ভার্চুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ থাকছে।
সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফি উল্লাহ মজুমদার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক আমির হামজা গাজালী। তিনি উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে গবেষণার সম্ভাবনা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ছাড়া ওমানের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শফিক শহীদ একটি কারিগরি অধিবেশনে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে উদ্ভিদবিজ্ঞান ও কৃষি গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
কেকে/ এমএস