কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ২ নম্বর সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে খোকন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা। তাদের দাবি, সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় গুদাম সুবিধা নিশ্চিত না করেই প্রতিষ্ঠানটিকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মুদি দোকানের ব্যবসা করে আসছেন। সম্প্রতি তার মালিকানাধীন খোকন এন্টারপ্রাইজকে সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ডিলারশিপের জন্য দেখানো স্থানে পর্যাপ্ত গুদাম ও সার সংরক্ষণের উপযুক্ত অবকাঠামো রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট স্থানে এখনো মুদি দোকানের কার্যক্রম চলছে। সেখানে সার মজুত ও বিতরণের উপযোগী গুদামব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। ফলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই কীভাবে প্রতিষ্ঠানটি ডিলারশিপ পেল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বসতবাড়িসংলগ্ন মুদি দোকানকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে এবং পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধা নিশ্চিত না করেই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা অনিয়ম কাজ করেছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। জমিতে সময়মতো সার না পেলে ফসলের ক্ষতি হয়। অথচ যাকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত গুদাম আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনা করে বিষয়টি তদন্ত করা দরকার।”
আরেক কৃষক আলাল মিয়া বলেন, “সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারি নিয়মনীতি মানা উচিত। পর্যাপ্ত গুদাম ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে কৃষকদের প্রয়োজনের সময় সার সরবরাহে সমস্যা হতে পারে। আমরা চাই, যোগ্য ও নিয়ম মেনে চলা ব্যবসায়ীদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হোক এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।”
অভিযোগের বিষয়ে খোকন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খোকন মিয়া বলেন, “আমি যখন ডিলারশিপের জন্য আবেদন করি, তখন আমার মুদি দোকান ছিল। কৃষি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে তাঁদের বলেছিলাম, এটি আমার মুদি দোকান। আমাকে ডিলারশিপ দেওয়া হলে দোকানটি ভেঙে এখানেই সারের গোডাউন তৈরি করব।” এ সময় তিনি তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও স্বীকার করেন।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। তবে খোকন এন্টারপ্রাইজের নামে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কিংবা উপযুক্ত গুদামজাতকরণ সুবিধা ছাড়া ডিলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “আমরা যখন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে একটি বড় ঘর দেখেছি। এখন হয়তো তিনি সেটি ভেঙে অন্য কিছু তৈরি করতে পারেন। খোকন এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
কেকে/ এমএস