নোয়াখালীর হাতিয়ায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ হত্যা মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের রামচরণ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালালেও পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি।
পলাতক নিজাম উদ্দিন সুখচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমানউল্লাহ গ্রামের মৃত ছায়েদল হকের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। ২০২৫ সালে হাতিয়া থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি তিনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আরও ৯টি মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বারির নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে রামচরণ বাজারে যান। এ সময় তাকে এনসিপির কার্যালয়ের সামনে থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার স্বজনেরা পুলিশের গতিরোধ করেন। একপর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পরপরই হাতিয়া থানা থেকে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সুখচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে রাত পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, নিজাম উদ্দিন একসময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি এনসিপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। ঘটনার কিছু সময় পর নিজাম উদ্দিনের স্বজনেরা পুলিশের হাতকড়াটি বাজারে ফেরত দেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল বলে জানান তিনি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ‘তাকে গ্রেপ্তারের পর উৎসুক জনতা ভিড় করে। এ সুযোগে তিনি পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের কাজে যারা বাধা দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/ এমএস