শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫,
১০ ফাল্গুন ১৪৩১
বাংলা English

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
শিরোনাম: বৈষম্যবিরোধীদের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ      এখনই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্ভব: সংস্কার কমিশন       দেশ পুনর্গঠনে দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছ নির্বাচন জরুরি: তারেক রহমান      তারা ক্ষমতায় থাকলে রাজা, ক্ষমতা হারালে ইঁদুর: জামায়াত আমির       স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রাথমিক সুপারিশমালা হস্তান্তর      জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব জানালেন মির্জা ফখরুল      তাড়াশে গাছে গাছে আমের মুকুল ম-ম ঘ্রাণে মুখরিত       
খোলাকাগজ স্পেশাল
৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস
পুনর্বাসনকারীদের নিশ্চিহ্নে মরিয়া ছিল আ.লীগ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:১১ এএম  (ভিজিটর : ১৩০)
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগ একটি পুরোনো এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল। দলটি বারবারই জনগণের বিপ্লবী আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে।

বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা এবং শাসনব্যবস্থার পতন উল্লেখযোগ্য। এরপর আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছিল। তবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু পুনর্বাসনকারীদের অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত এক কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হয়েছেন। পুনর্বাসনের পর আওয়ামী লীগ তাদের নিজস্ব স্বার্থে পুনর্বাসনকারীদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়েছিল। ক্ষমতার দৌরাত্ম্য, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা তাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে প্রথম পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখে তিনি আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেন। তবে এর ফল ছিল মারাত্মক। আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, জিয়াউর রহমান নিজেই ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের দ্বারা হত্যার শিকার হন। এটি প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করাটা জিয়াউর রহমানের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল।

এরপর এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনরায় শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়। তবে এর বিনিময়ে জাতীয় পার্টি ধীরে ধীরে তাদের শক্তি ও জনপ্রিয়তা হারায়। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তীব্র জনরোষের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জেনারেল এরশাদ। এরশাদের পতনের পর বিভিন্ন কৌশলে জাতীয় পার্টিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। ফলে জাতীয় পার্টি এখন প্রায় বিলীন হওয়ার পথে।  

তৃতীয়বার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছিল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। ২০০৬-০৭ সময়কালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করে দলটি। কিন্তু এ সম্পর্কের ফল ছিল জামায়াতে ইসলামীর জন্য ভয়াবহ। সে সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর ভিত্তি করে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনঃস্থাপন করে। তবে ক্ষমতা পাকাপোক্ত হওয়ার একপর্যায়ে জামায়াতের শীর্ষ ১২ নেতাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।

এরপর ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্নীতি দমন ও রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযানের নামে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু এর পরিণতিও ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তা নির্মম হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীর মনোবলে গভীর আঘাত লাগে। এ ঘটনার সঙ্গে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল, যেটা ইতোমধ্যে সামনে চলে এসেছে। যাতে প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া। প্রতিবারই পুনর্বাসনকারীরা চূড়ান্ত পরিণতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ এ ঝুঁকি নিতে চাইলে তাকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে একটি রাজনৈতিক দল গঠন ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা। বাম বা ডানপন্থি মতাদর্শের দিকে না ঝুঁকে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রাখবে এ রাজনৈতিক দল। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে, বাংলাদেশের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে সব ইস্যু সমাধানের চেষ্টা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। নতুন এই দল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

তবে এ দুই প্ল্যাটফর্ম বিলুপ্ত হচ্ছে না। তারা প্রেশার গ্রুপ হিসেবে থেকে যাবে। এ দুই প্ল্যাটফর্মের শীর্ষ নেতারা জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে নতুন এ দলে। নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা দলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত হবেন না। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনে অংশ নেবেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন রাজনৈতিক দলটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে এবং জেতার সম্ভাবনা আছে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে। ইতোমধ্যে প্রতিটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন তারা। নাগরিক কমিটির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য জাতীয় ব্যক্তিত্বদের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো। জাতীয় নাগরিক কমিটি নতুন জাতীয় মুখ তৈরিতেও কাজ করে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি আসনে নেতৃত্ব গড়ে তুলছি। এসব কৌশল অনুসরণ করে আমরা আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং জয়ের পরিকল্পনা করছি।’

দুই প্ল্যাটফর্মের নেতারা জানান, যদি অন্য রাজনৈতিক দলের কেউ এখানে যোগ দিতে চায় তাহলে পূর্বের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে এবং সেসব দলের অতীত ভুলগুলোর সমালোচনা করার মানসিকতা থাকতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ নতুন দলে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে পতিত আওয়ামী লীগ সেখানে আশ্রয় নিয়ে আবার পুনর্বাসিত হতে পারে। এ ছাড়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিপক্ষে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে একটি রাজনৈতিক দলকে। তাদের সে উদ্যোগকে স্বাগতও জানাচ্ছে চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। এমনকি কেউ কেউ আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও মত দিচ্ছেন। বিষয়টা যদি এমন হয় তাহলে সেটা হবে নিজের পায়ে নিজের কুড়াল মারা।

বর্তমানেও বিএনপি এমন একটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে নরম মনোভাব দেখানো, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা এবং সরাসরি চ্যালেঞ্জ না ছুড়ে পরোক্ষ রাজনীতির চর্চা বিএনপির কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা শুধু বিএনপির জন্য নয়, পুরো রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যে কোনো দলের পুনর্বাসন তখনই যুক্তিযুক্ত, যখন তা জনগণের স্বার্থে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য করা হয়। বিএনপির উচিত বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরো সচেতন পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং দলীয় স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৌশল নির্ধারণ করা।

কেকে/এআর
মতামত লিখুন:

সর্বশেষ সংবাদ

জমি সংক্রান্ত বিরোধে চিত্র নায়িকা দিতির বাড়িতে হামলা, আহত-২
বৈষম্যবিরোধীদের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ
লোহাগাড়া প্রবাসী মানবিক ফাউন্ডেশনের ফ্রি চিকিৎসা সেবা
বজ্রপাতে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের, গুরুতর আহত বড় ভাই
বিয়ের জন্য নামাজি ছেলে চান অভিনেত্রী আইশা

সর্বাধিক পঠিত

৩৬ বছর পর হারানো মা-কে ফিরে পেলেন ছেলে
মৌলভীবাজারে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৬৬ লাখ টাকা লুট
জমি নিয়ে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ২০
কাপাসিয়ায় মনোজ্ঞ ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
আধিপত্য বিস্তারে বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষে আহত ৫০
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2024 Kholakagoj
🔝