শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর (মনোহর বাজার-ইব্রাহিমপুর) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত ভূমি, স্থাপনা ও গাছপালার ক্ষতিপূরণ প্রদানে হয়রানির অভিযোগ এনে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলমের অপসারণ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ।
এ দাবিতে তারা বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শরীয়তপুর শহরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
মানববন্ধনে শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় তারা এডিসি মাসুদুল আলমের অপসারণ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভেদরগঞ্জ উপজেলার সাজনপুর এলাকার আলম পাইক বলেন, শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক উন্নয়নে আমার ৪৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ভূমি, স্থাপনা ও গাছপালার ক্ষতিপূরণ বিলের জন্য ডিসি অফিসের এলএ শাখায় ঘুরতেছি। আট ধারাসহ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও এডিসি মাসুদুল আলম আমাদের ক্ষতিপূরণের চেক দিচ্ছে না। সে দিনের পর দিন আমাদের হয়রানি করছে। আমরা তার অপসারণ চাই। তাকে অপসারণ করে আমাদের অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দ্রুত দিতে হবে।
মহিষার এলাকার বিল্লাল হাওলাদার বলেন, সড়কে আমার ১০ গন্ডা জমি চলে গিয়েছে। চার বছর যাবৎ আমরা অধিগ্রহণের টাকার জন্য ঘুরছি। কিন্তু আমরা টাকা পাচ্ছি না। এ কারণে আমরা অন্য কোথাও জমি কিনতে পারতেছিনা। এডিসি মাসুদুল আলম আমাদের হয়রানি করছে। আমরা তার অপসারণ চাই।
জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন মাদবর বলেন, শরীয়তপুর-নাওডোবা সড়কে আমার ১৪ শতাং জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য ঘুরে ঘুরে হয়রান হয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এডিসি মাসুদুল আলম আমাদের ক্ষতিপূরণের চেক দিচ্ছে না। আমরা এডিসি মাসুদুল আলমের অপসারণ চাই।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম বলেন, শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা সড়ক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ২১টি এলএ কেসে ২৪১.৬১ একর ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান আছে। এবং শরীয়তপুর মনোহর বাজার থেকে ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত মোট ১৯টি এলএ কেসে ২২৩.৫৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুটি প্রকল্পে মোট ২২টি এলএ কেসে আমরা অর্থ বরাদ্দ পেয়েছি। এই ২২টি এলএ কেসে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা যথা নিয়মেই ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হচ্ছে। এরমধ্যে শরীয়তপুর-নাওডোবা সড়কে ১টি ও মনোহর বাজার-ইব্রাহিমপুর সড়কে ২টি এলএ কেসে সড়ক বিভাগ হতে অবকাঠামো এবং গাছপালার মূল্য হতে ১০ শতাংশ কর্তন করে পরিশোধের জন্য আমাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ১০ শতাংশ মূল্য কেটে রেখে ক্ষতিপূরণ নিতে রাজি হয়।
তিনি আরো বলেন, এ বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় গত ২২ জানুয়ারি সড়ক বিভাগের সচিব বরাবর পত্র প্রেরণ করেছেন, যাতে করে ১০ শতাংশ কর্তন না করেই ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়। সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অধিগ্রহণ কর্যক্রম যথা নিয়মেই চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যে আবেদন দাখিল করেছেন তা ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী যথা নিয়মেই পরিশোধ করে আসছি। আমাদের অধিগ্রহণ কার্যক্রমে অহেতুক কোনো বিলম্ব বা হয়রানির সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা দ্রুত তাদের ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
কেকে/এএম