শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের চেক পাওয়ার জন্য দৃষ্টিহীন সিরাজ মাদবর ও তার পরিবারের ৮ সদস্য ৪ বছর ধরে বিভিন্ন দফতরে ঘুরছেন। স্থানীয় দালাল ইলিয়াস মাদবরকে ১৪ লাখ টাকা দিতে না পারায় তাদের চেক আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ও মাদারিপুরের শিবচর উপজেলায় মোট ১১৯ দশমিক ৭৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয় শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী প্রকল্পের জন্য। সিরাজ মাদবরের পরিবার ওই প্রকল্পে ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ জমি হারায়। জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তাদের নামে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক প্রস্তুত করা হলেও আজও তারা সেই চেক হাতে পাননি।
সিরাজ মাদবর জানান, গত ৪ বছর ধরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন দফতরে ঘুরছি। কিন্তু কানুনগো মাইনুদ্দিন স্যার আমাকে দালাল ইলিয়াস মাদবরকে ১৪ লাখ টাকা দিতে বলেছেন। সেই টাকা দিতে না পারায় আমার চেক আটকে আছে।
তিনি আরো বলেন, চেক না পাওয়ায় পরিবারের ৮ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০১৪ সালে ইলিয়াস মাদবরের বাবা ইব্রাহিম মাদবর শরিয়তপুরের চিকন্দি আদালতে ৯৪ জনের নামে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। মামলার জটিলতা থাকার পরেও স্থানীয় কয়েকজন ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে চেক উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ইয়ারুন নেছা বলেন, দালাল ইলিয়াস মাদবরকে দুই লাখ টাকা দিয়েছি বলে আমি চেক পেয়েছি। কিন্তু সিরাজ টাকা দিতে পারেননি, তাই তিনি চেক পাননি।
কানুনগো মাইনুদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সিরাজ মাদবরকে কোনো টাকা দেওয়ার কথা বলিনি। শুধু বলেছি, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চেক পাওয়ার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরিয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারের চেক আটকে থাকা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
কেকে/এএম