ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য বা দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার ড. মিজানুর রহমান সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৮৭তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ৪৩(৪) ধারা অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হওয়া নিষিদ্ধ। দলীয় লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেওয়া হলো।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ৪৩(৪) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মিজানুর রহমান বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাঙ্গন যেন রাজনীতির মাঠ না হয়ে ওঠে, সেটি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
২০০৬ সালের আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শীর্ষ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ত্রিশালে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী ও ৫০০ এর বেশি শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা বাড়লেও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় থেকে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
কেকে/এএম