মহান ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি।
প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর একে একে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দফতর, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বিশেষ করে বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পর এই প্রথম বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সদস্যরা শহিদ বেদীতে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। প্রেসক্লাবের সভাপতি মোল্লা নাসির, সাধারণ সম্পাদক শামীম শিবলী ও সহ-সভাপতি ফয়সল আহমেদ খানসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পর বাঞ্ছারামপুর কল্যাণ সমিতির নেতারা উপজেলায় ভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়। সমিতির পক্ষে সহ-সভাপতি ম.ম ইলিয়াস, পৌরসভার প্রতিনিধি মোশাররফ হোসেন রিপন, সহ প্রচার সম্পাদক ফয়সল আহমেদ খানসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক (মেজর অব.) সায়েদুল ইসলাম বলেন, নতুন বাংলাদেশে কল্যাণ সমিতি ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারায় আমরা আনন্দিত।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে প্রভাতফেরির আয়োজন করা হয়- যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
পরে সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও মাতৃভাষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম, অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।
ইউএনও ফেরদৌস আরা বলেন, ভাষার জন্য যে আত্মত্যাগের ইতিহাস বাংলাদেশ বহন করে, তা শুধু দেশেই নয়, সারা বিশ্বে অনন্য। নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানতে হবে এবং বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
পুরো আয়োজন জুড়েই ছিল ভাষা শহিদদের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, স্মৃতিচারণ ও মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
কেকে/এজে