নীলফামারী জেলা ক্যাব কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়রুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নীলফামারী পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মহসিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) উপ-পরিচালক মো. সাইদুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নীলফামারী জেলার সহকারী পরিচালক মো. শামসুল আলম।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. গওহর জাহাঙ্গীর রুশো।
এ সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্যে নীলফামারী জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. আশিক বলেন, প্রতিটি বাজারে মূল্যতালিকার বোর্ড থাকলে ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে সম্পর্কের বৈরিতা তৈরি হবে না।
বিশেষ টাস্কফোর্সের ছাত্র প্রতিনিধি মো. ইসমাইল বলেন, আগামীতে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতের জন্য বাজারে প্রতিদিন মনিটরিংয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কারণ আগামীতে রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অতি মুনাফা লাভের আশায় প্রতিটি পণ্যের মূল্য চড়া দামে বিক্রির প্রবণতা রয়েছে। তাই রমজান উপলক্ষে বাজার তদরকির জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করার আহ্বান জানান।
নীলফামারী চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সাবেক সভাপতি মো. সোহেল পারভেজ বলেন, আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দাম সহনীয় রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা লাভের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। প্রশাসনিকভাবে রমজান উপলক্ষে একটি নতুন কমিটি তৈরি করে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
মো. গওহর জাহাঙ্গীর রুশোর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি জনাব মোহাম্মদ নায়রুজ্জামান নীলফামারী এর উপস্থিতিতে
জেলার ব্যবসায়ীরা বোতল জাত তেল সরবরাহ কোম্পানি থেকে ডিডি করার পরেও সাপ্লাই না পাওয়ার কারণে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক নিজ উদ্যোগে প্রতিদিন তিনটি পয়েন্ট থেকে বোতলজাত তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং সঠিকভাবে বিতরনের জন্য একটি কমিটির নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া সোনালি মুরগি, বয়লার মুরগি, ডিম, গরুর মাংস, খাসির মাংস, ছোলা, ডাল, চাল, সেমাই ইত্যাদি পণ্যের উৎপাদকদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী রমজানে সকল পণ্য দ্রব্য ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, আলু কোল্ড স্টোরেজের মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আগামীতে কৃষক ব্যতীত অন্য কোন মধ্যসত্তাভোগী কোল্ডস্টোরেজে আলু রাখতে পারবে না এবং উত্তোলন করতে পারবে না। এছাড়া আগামী রমজান উপলক্ষে বাজারে কোন ধরনের অস্থিতিকর পরিবেশ অথবা সিন্ডিকেট তৈরি করলে বিক্রেতাদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হবে।
সভায় নিরাপদ খাদ্য সরকারি পরিচালক হোটেল মালিকদের উপস্থিতিতে সকলকে পুষ্টিকর তেল ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করেন।
এছাড়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নীলফামারী জেলার সরকারি পরিচালক শামসুল আলম সরকারি মূল্য তালিকা সম্পর্কে সেমিনারি উপস্থিত সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদের অবগত করেন।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মহসিন বলেন, আগামী রমজান উপলক্ষে প্রশাসনের নেওয়া সকল উদ্যোগ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তা করবেন।
সভার সভাপতি জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সেমিনারের উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামীতে ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিতকরণের জন্য সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
কেকে/এজে