জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ২৭ বছর পর বিএনপির ডাকা দলীয় নেতাদের বর্ধিত সভায় যুবদল নেতা নান্নুর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সভাস্থলের প্রবেশদ্বারে আমন্ত্রিত সাংবাদিকরা কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে গেলে গেটে দাঁড়ানো যুবদলের সাবেক সহসভাপতি জাকির হোসেন নান্নু ভিতরে প্রবেশে বাধা প্রদান করেন। এসময় গণমাধ্যমকর্মীরা নিজের কমস্থলের আইডি কার্ড এবং আমন্ত্রণ পত্র দেখালেও অনেকের সাথে অসদাচরণ করেন নান্নু।
এ বিষয়ে একযুগের অধিক সময় বিএনপির নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহকারী একটি জাতীয় দৈনিকের সিনিয়র রিপোর্টার বলেন, গতকাল বুধবার বিএনপির মিডিয়া সেল মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের আমন্ত্রণ হস্তান্তর করেন। তারপরও নান্নু কোন হাউজে চাকরি করেন বলে জানতে চেয়ে আমাকে সাইডে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এই রিপোর্টার বলেন, আমি কোন গণমাধ্যমে আছি তা নিশ্চিত করেই মিডিয়া সেল আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যুবদল নেতা নান্নু যে ব্যবহার আমাদের সাথে করেছেন তা আমাদের জন্য লজ্জাকর এবং অসম্মানজনক।
দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত অনলাইন পোর্টালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জানান, আমি সভায় প্রবেশের মুখে আমন্ত্রণ পত্র দেখিয়ে ঢুকতে গেলে যুবদল নেতা আমাকে বাঁধা দেন এবং আমি গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিলেও আমাকে সাইডে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এসময় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি জাহিদুল কবির জাহিদ বিষয়টি অবলোকন করেন। পরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ডা. রফিকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে আমাকে সভাস্থলে যেতে দেওয়া হয়।
দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র রিপোর্টার জানান, আমি যখন ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করি তখন দেখি আমার পিছনে থাকা কয়েকজন সাংবাদিকদের কার্ড দেখানোর পরও ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না যুবদল নেতা নান্নু। পরে আমি গিয়ে সেসব সাংবাদিকদের বিষয়ে অনুরোধ করলে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন যুবদল নেতা নান্নু।
জানা যায়, এই যুবদল নেতা যখন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং বরিশাল বিভাগীয় টিম প্রধান ছিলেন, তখন তৃণমূলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আসে। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে তার রাজপথের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন খোদ যুবদলের নেতারা।
কেকে/এজে