কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সহযোগীতায় এক সন্তানের জননীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের জহুরুল হকের পুত্র ধর্ষক মইনুল হক (২২) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ এক মাস যাবত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ভুক্তভোগী ওই মহিলা ৩দিন আগে উপজেলার বড়লই এলাকায় তার দুলাভাইয়ের বাসায় বেড়াতে যান। সেই সুবাদে ধর্ষক মইনুল হক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই মহিলাকে তার সাথে দেখা করতে বলেন। প্রেমিকের কথা অনুযায়ী দেখা করতে রাজি হলে ধর্ষক মইনুল হক তার সহযোগী হাসানুল হককে মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে আনার জন্য পাঠিয়ে দেন। ভুক্তভোগী মহিলা রাত সাড়ে দশটায় সহযোগীর মোটরসাইকেলে চড়ে উপজেলার চরবড়লাই বাজারে আসলে তাকে পাশের একটি ইউক্লিপটাস বাগানে নিয়ে গিয়ে দুজনেই জোর পূর্বক ধর্ষন করেন।
পরে তারা ওই নারীকে একটি অটোরিক্সায় উঠিয়ে তার দুলাভাইয়ের বাসা পাঠিয়ে দেন। ওই মহিলা দুলাভাইয়ের বাসায় আসার পথে উপজেলার বাংলাবাজার মোড়ে পৌঁছা মাত্রই পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ৫-৭ জন মিলে অস্ত্রের মুখে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আবারো ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই মহিলা ফুলবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে তারই প্রেক্ষিতে ফুলবাড়ী থানার পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে পাঁচ ধর্ষককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- উপজেলার চন্দ্রখানা বালাটারী গ্রামের একরামুল হকের পুত্র হাসানুল হক (২০),বড়লই(বাংলা বাজার) গ্রামের শাহাদত হোসেনের পুত্র ইয়াকুব আলী (২৫),চর বড়লই (হাজীটারী) গ্রামের মৃত ইলিমুদ্দিন সরকারের পুত্র লাল মিয়া (৪০) এবং চর বড়লই গ্রামের আ. রহমানের পুত্র সোহেল রানা (২১)।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ জানান, ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে এবং গ্রেফতারকৃত ৫ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কেকে/ এমএস