জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, দেশে গত ১৫ বছরে গণতন্ত্রের কথা বলতে গেলেই গুম-খুনের শিকার হতে হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে যখন আমরা গণতন্ত্রের কথা বলেছি, তখন আমাদেরকে গুম-খুন করা হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু গ্রেফতার নয়, দেশছাড়াও করা হয়েছিল অনেককে। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সেই খুনি হাসিনার সামনে ইস্পাত কঠিন মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পক্ষ এবং গোষ্ঠী বাংলাদেশের সেই ৪৭ সাল থেকে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তারা তাদের সেই পতাকাটা মানুষের সামনে উড্ডীন করে রাখে। কিন্তু গত নির্বাচনের পর মানুষ যখন আশাহত হয়েছিল, তখন ছাত্ররা শেষ আশার প্রতীক হিসেবে জনগণের সামনে উদয় হয়।
তিনি আরো বলেন, আমরা এজন্য যেসব রাজনীতিকবৃন্দ, দল, পক্ষ, গোষ্ঠী গত ১৫ বছরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, হামলার শিকার হয়েছেন, গণগ্রেফতারের শিকার হয়েছেন, দেশছাড়া হয়েছেন, জীবনের আর্থিক মূল্য খুইয়েছেন, আমরা আজ এ মঞ্চ থেকে তাদেরকে সংগ্রামী অভিনন্দন জানাচ্ছি।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, বিদেশসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকা আপামর জনগোষ্ঠী অক্লান্ত পরিশ্রম করে জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে স্বাধীনতার সূর্য নতুনভাবে উদিত করেছেন। আজকের এই ঐতিহাসিক আরেকটি সন্ধিক্ষণে আমরা একত্রিত হয়েছি।
তিনি বলেন, গত ৫৩ বছর যে রাজনৈতিক ইনস্টিটিউশনগুলো তৈরি হয়েছে, তার কোনো সিস্টেম বর্তমানে কাজ করছে না। এমন অবস্থায় ছাত্র ও তরুণদের একটি রাজনৈতিক ভূমিকা অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের স্যালুট জানিয়ে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী আরো বলেন, আপনাদের এ কষ্টকে আমরা স্যালুট করি। আপনাদেরকে আমরা কোনো টাকা-পয়সা দিয়ে আনিনি। আপনাদেরকে কোনো লোভ দেখিয়ে এ জনসভায় উপস্থিত করিনি। কিন্তু আপনাদের সামনে আমরা একটি জিনিস দেখাতে সক্ষম হয়েছিলাম, সেটি হলো- একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন, নতুন বাংলাদেশের আশা, নতুন বাংলাদেশের জাগরণ। এই জাগরণে আজ আপনারা ঐতিহাসিক পার্লামেন্টের সামনে উপস্থিত হয়েছেন, যেই পার্লামেন্টের সামনে থেকে ছাত্র-জনতা ঐতিহাসিক ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের দেশ থেকে পালাতে বাধ্য করেছিল। আজ আমরা ঐতিহাসিক একটি সময় একই পার্লামেন্টের সামনে একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণার জন্য উপনীত হয়েছি।
কেকে/এএম