মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
আবহাওয়া
তীব্র শীতে কুড়িগ্রামে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম

তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে কুড়িগ্রামে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দরিদ্র ও দিনমজুররা। কাজ না পেয়ে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ।

সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দিনমজুর নাজমুল হোসেন বলেন, “শীতের কারণে সকালে কাজে যাইতে দেরি হয়। ঠান্ডায় হাত-পা চলতে চায় না, তবু কাজ না করে উপায় নাই। পেট তো চলা লাগবে।”

নাজমুলের মতো ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ায় দিনেও তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

শীতের প্রভাবে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন বহু রোগী কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এদিকে, ২৫০ শয্যার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আলামিন বলেন, “তীব্র শীতের কারণে শিশু, নারী ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।”

সদর হাসপাতালে কথা হয় মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার ছেলের কয়েকদিন ধরে জ্বর-সর্দি। তাই ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছি।”

এছাড়া শীতল বাতাস ও পর্যাপ্ত রোদের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। কুড়িগ্রাম পৌরসভার বৈশ্যপাড়া এলাকার দিনমজুর আজাদ ও নির্মল জানান, শীতের কারণে কাজ বন্ধ থাকায় ধার করে সংসার চালাতে হচ্ছে।

নাগেশ্বরী উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম বলেন, “এবার ঠান্ডা অনেক বেশি। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এখনো কেউ কম্বল দেয়নি।”

একই এলাকার হামিদুল ইসলাম বলেন, “ঠান্ডায় কাজ করলে হাত-পা জ্বালা করে। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না।”

ঘন কুয়াশার কারণে নৌপথেও দুর্ভোগ বেড়েছে। রৌমারী থেকে কুড়িগ্রাম জজ আদালতে হাজিরা দিতে আসা সোলায়মান ও রফিকুল জানান, কুয়াশার কারণে নদীপথে যাতায়াতে সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা।

তাদের সঙ্গে থাকা রাশেদুল বলেন, “এক ঘণ্টার পথ ব্রহ্মপুত্র নদ পার হতে এখন আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে। এতে আইনি বিড়ম্বনার পাশাপাশি শারীরিক কষ্টও হচ্ছে।”

জেলা সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও খুব বেশি নয়। তবে প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা থেকে রোগীরা এসে আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সহায়তার জন্য ৫৪ লাখ টাকা নগদ তহবিল মজুদ রয়েছে।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  শীত   কুড়িগ্রাম   ঠান্ডাজনিত রোগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

আবহাওয়া- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close