ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে ঘিরে আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলায় উভয় আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১টা ৪৪ মিনিটে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নাসির হোসেন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের হারতে দেন নাই। অবশেষে সত্যের জয় হলো।’
তিনি লিখেছেন, ‘আইনের প্রতি শুরু থেকেই আস্থা ছিল, তাই আইনের প্রতি সম্মান রেখে বলছি—ধন্যবাদ। শুধুমাত্র সঠিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সুষ্ঠু বিচার কার্যকর করার জন্য।’
সবশেষে নাসির লিখেছেন, ‘সকল প্রকার মিথ্যা অপপ্রচার এবং মনগড়া কাহিনিকে উপেক্ষা করে, সত্যকে প্রাধান্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আদালতকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমার বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন।
তার অভিযোগ ছিল, বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই তামিমা নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। তবে শুরু থেকেই নাসির ও তামিমা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছিলেন যে, পূর্ববর্তী বৈবাহিক সম্পর্কের আইনগত সমাপ্তির পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন রাকিব।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। এতে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মি ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
আসামিপক্ষের রিভিশন আবেদন ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি খারিজ হওয়ার পর একই বছরের ২০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।
গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত ১০ জুন রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে দণ্ডের আবেদন জানান। অন্যদিকে নাসিরের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং তামিমার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দেন আদালত।
কেকে/ এমএস