শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: মেসির ক্যারিয়ারের ছায়াসঙ্গী বাবা হোর্হে আর নেই      রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী      এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার, জানা যাবে যেভাবে      রাশিয়া থেকে তেল কিনে বিপাকে চীন-ভারত, ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল পাস মার্কিন সিনেটে      সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী      হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু      একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী      
জাতীয়
কারিগরি প্রতিষ্ঠানে নন-টেকনিক্যাল আধিপত্যের অবসান চান প্রকৌশলীরা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন দেশের প্রকৌশলী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, কারিগরি জ্ঞান ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া বৈষম্যহীন ও কার্যকর রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের প্রাধান্য, প্রকৌশলীদের পদোন্নতিতে বৈষম্য ও নীতি-নির্ধারণে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের উপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়া প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সংস্কার, মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্যের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রকৌশলীরা।

শনিবার (৮ জুলাই) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) ঢাকা কেন্দ্রের মিলনায়তনে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ‘ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আইইবি ঢাকা কেন্দ্র এ সভার আয়োজন করে। 

অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক মামলা, গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারহীনতার অভিযোগকে গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পটভূমি হিসেবে তুলে ধরা হয়।

ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয়, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ আন্দোলনকারীদের মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে এক দফা দাবির আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত সহিংসতায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ২৫ হাজারের বেশি মানুষের আহত হওয়ার তথ্যও এতে তুলে ধরা হয়। 
আন্দোলনে প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ও ভূমিকার কথাও ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষার কথাও তুলে ধরা হয়। 

ডকুমেন্টারির শেষাংশে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন ও গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় ছাত্র-জনতা ও পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের ৩৬ দিনের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজপথের লড়াই ও ত্যাগ।’

এই সময়ে তার নির্বাচনি এলাকায় শতাধিক নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। দীর্ঘ এই আন্দোলনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন এ্যানি।

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্কের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শুরুতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেধার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামে। পরে রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।’

৫ আগস্টের পর একক কৃতিত্ব দাবি বা আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে অন্যদের বাদ দেওয়ার প্রবণতাকে ‘নতুন বৈষম্য’ হিসেবে অভিহিত করেন এ্যানি।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও দুর্নীতির বিচার এখন জনগণের অন্যতম প্রধান দাবি। শেখ হাসিনার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হতে হবে। জুলাইয়ের চেতনাকে বিভক্ত করার যেকোনো চেষ্টা দেশের ঐক্য ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে।’

বিভাজন এড়িয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

প্রকৌশলী সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশ গড়ে তুলতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। উপস্থিত প্রকৌশলীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে প্রকৌশলী সমাজের মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। 

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, এটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রে সুশাসন, মানবিক মর্যাদা ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রকৌশলী সমাজকে রাষ্ট্র নির্মাণের অন্যতম প্রধান শক্তি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তেও প্রকৌশলীদের মেধা, দক্ষতা ও পেশাগত সততা কাজে লাগাতে হবে।’

একইসঙ্গে বিগত সরকারের দোসরদের পুনর্বাসন না করার কথা জানিয়ে তিনি ফ্যাসিবাদমুক্ত প্রশাসন ও সমাজ গঠনে প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল সংস্কার এবং মেধার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সুযোগ দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন হয়েছে। বাংলাদেশেও দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনের অবসানে ছাত্র-জনতাকে ব্যাপক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।’

তবে গণঅভ্যুত্থানের পরও ষড়যন্ত্র থেমে নেই উল্লেখ করে শাহরিন ইসলাম দেশের ভেতরে থাকা ‘ছদ্মবেশী’ দোসরদের ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়ে শাহরিন ইসলাম ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত এসএসপি পদ্ধতিতে ফেরার প্রস্তাব দেন। 

তিনি বলেন, ‘ডেপুটি সেক্রেটারি বা তদূর্ধ্ব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ ও শিক্ষকসহ সব ক্যাডারের জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত।’

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতম ব্যক্তিদের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নিয়োগের দাবি জানান শাহরিন ইসলাম।

চীনসহ বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নেও প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও কৃষিবিদদের মধ্য থেকে মেধাবীদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে।’

প্রকৌশলীদের পেশাগত বৈষম্য দূর করতে আইইবি ও এ্যাব যৌথভাবে সরকারের সঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান শাহরিন ইসলাম।
 
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি কারিগরি খাতে প্রকৌশলীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী খান মনজুর মোর্শেদ।

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।’

ওয়াটার বোর্ড, পিডিবি ও বিএসটিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের আধিপত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মনজুর মোর্শেদ বলেন, ‘বিএসটিআইয়ের মতো একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

পিডিবিতেও প্রকৌশলীদের পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রকৌশলীদের পরিবর্তে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিদেশে কারিগরি প্রশিক্ষণে পাঠানোরও সমালোচনা করেন তিনি। এতে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মনজুর মোর্শেদ।

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ তখনই সফল হবে, যখন প্রতিটি পেশাজীবী তার যোগ্য মর্যাদা পাবেন এবং নীতি নির্ধারণে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শুধু আদেশ দিয়ে দেশ পরিচালনা নয়, প্রশাসনের প্রকৃত সংস্কার প্রয়োজন।’

নতুন বাংলাদেশে কোনো পেশাজীবী গোষ্ঠী যেন বৈষম্যের শিকার না হয়, সে জন্য প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান মনজুর মোর্শেদ।

আইইবির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান ড. মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন জনগণের ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ রুদ্ধ থাকায় মানুষের মধ্যে যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

ভবিষ্যতে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের ভোটের মাধ্যমে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নিশ্চিত করার মতো একটি কার্যকর নির্বাচনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের সূচনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে সাহসের পরিচয় দিয়েছে, কিন্তু দেশ পুনর্গঠনে তাদের মধ্যে যে ‘নলেজ গ্যাপ’ রয়েছে, তা দূর করতে হবে। আগামী বাংলাদেশকে অবশ্যই মেধাভিত্তিক হতে হবে।’

অধ্যাপক রব্বানী বলেন, ‘দেশের বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও শিক্ষাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নৈতিক ও কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করতে হবে।’

একইসঙ্গে সিভিল সার্ভিসে ক্যাডার বৈষম্য দূর করে পেশাভিত্তিক ও মেধানির্ভর রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
 
খুনি হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-জনতা রাজপথ ছাড়বে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। 

আবিদুল বলেন, ‘৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় আমার চোখের সামনেই পাঁচজন শহীদ হন।’

তাদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মানিক মিয়া শাহারি চৌধুরী এবং নবম শ্রেণির ছাত্র আনাসের কথা উল্লেখ করেন তিনি। 

শহীদ আনাসের একটি চিঠির কথা উল্লেখ করে আবিদুল বলেন, ‘মিছিলে যাওয়ার আগে আনাস তার বাবা-মায়ের উদ্দেশে চিঠি লিখে গিয়েছিল। সেখানে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে সে লিখেছিল, ‘যদি আর না ফিরি, কষ্ট পেয়ো না।’ 

তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা বোঝাতে হলে শহীদ আনাসের মতো কিশোরের আত্মত্যাগের কথা বলতে হয়।
এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট কক্ষে বসে পরিকল্পনা করে সফল হয়নি, বরং রাজপথের রক্ত ও মানুষের প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে এর ফয়সালা হয়েছে। শিক্ষক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রবাসীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণেই আন্দোলন সফল হয়।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কারিগরি প্রতিষ্ঠান   নন-টেকনিক্যাল আধিপত্য   অবসান চাওয়া  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close