বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১১ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০      ● হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর প্রাণহানি      ● ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়      ● বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে চান তারেক রহমান      ● টোকিওতে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা তাকাইচির      ● সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় শিশুসহ নিহত ৫      ● বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের      
আন্তর্জাতিক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইরানের একটি বিদ্যালয় ও ক্রীড়া কেন্দ্রে গেল ফেব্রুয়ারিতে জোড়া সামরিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত। এই হামলার ঘটনা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে বিশ্বাস করার মতো পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইরানে নিযুক্ত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বলেছে, ‘সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ওপর প্রাণঘাতী দমনপীড়ন চালানোর সময় নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইরানি কর্তৃপক্ষও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে।’

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপনের জন্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরানের এই নতুন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অসন্তোষের বিরুদ্ধে তেহরানের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে জেনেভায় অবস্থিত মার্কিন ও ইরানি স্থায়ী মিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী অতীতে দাবি করেছিল, তাদের অভিযানগুলো সশস্ত্র সংঘাত সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ইরান।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারে তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীই দায়ী ছিল বলে মনে করার যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি পাওয়া গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ওই হামলায় ১২০ জন শিক্ষার্থীসহ ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।’

প্রতিবেদন জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বলেছে, ‘এটি ছিল নির্বিচার হামলা; যা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ক্ষতিসাধন করেছে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিদ্যালয়টি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি নৌ ঘাঁটির পাশেই অবস্থিত ছিল। নিজস্ব লক্ষ্যবস্তু ডেটাবেসে স্কুলের তথ্য হালনাগাদ না করা এবং ভবনটি কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু কি না তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের এই চরম ব্যর্থতা কেবল সাধারণ অবহেলা হতে পারে না।’

‌‌‘একটি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চরম ঝুঁকি রয়েছে জানা সত্ত্বেও এবং এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে মার্কিন বাহিনী স্কুল ভবনে ওই হামলা চালিয়েছিল।’

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক তদন্তের সূত্র ধরে দাবি করেছিলেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের কোনো বালিকা বিদ্যালয়ে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তেই মিনাবের প্রাণঘাতী হামলায় মার্কিন বাহিনী দায়ী থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (পেন্টাগন) পরবর্তী তদন্তের পরিধি বাড়ালেও এখন পর্যন্ত প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। 

জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘স্কুলটি একটি চিহ্নিত বেসামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেটি সামরিক কাজে ব্যবহার হচ্ছিল; এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।’

একইভাবে ল্যামার্ড শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে হামলার বিষয়েও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ওই হামলায় নিকটস্থ আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন। এটিও ছিল নির্বিচার যুদ্ধাপরাধ।’

অবশ্য পেন্টাগন গত মার্চে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ওই দিন ল্যামার্ড শহরে মার্কিন বাহিনী কোনো হামলা চালায়নি।

সূত্র : রয়টার্স।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ইরান   যুক্তরাষ্ট্র   জাতিসংঘ   যুদ্ধাপরাধ   ইরান যুদ্ধ   মিনাব   মিনাব স্কুল হামলা   ল্যামার্ড   ডোনাল্ড ট্রাম্প   ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close