ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদরাসার দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১২ জন শিক্ষার্থী। তাদের পড়ানোর দায়িত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ২০ শিক্ষক। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের কেউই পাশ করতে পারেনি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এমন অনুপাতে পরিচালিত মাদরাসাটিতে ফলাফল দাঁড়িয়েছে শতভাগ ফেল।
সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।
জানা যায়, চলতি বছর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ২৩টি মাদরাসা থেকে ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। মাদ্রাসা পর্যায়ে উপজেলায় গড় পাশের হার ৪৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অন্যদিকে বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ শিক্ষার্থীর ফলাফল শূন্য। কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান বলেন, ‘আসলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদরাসায় আসেনি। আমরা চেষ্টা করেছি। তবে মাদ্রাসায় আগে শিক্ষক ছিল না। অবকাঠামোও জরাজীর্ণ। তবে সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। আগামী বছর থেকে ভালো ফলাফলের জন্য যা যা প্রয়োজন, সবকিছুই করব।’
তবে ২০ জন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটা তো আসলে লজ্জার কথা। প্লিজ, এটা নিয়ে নিউজ করবেন না।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামের মুঠোফোন একাধিকবার কল করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, একটি প্রতিষ্ঠানে ২০ জন শিক্ষক থাকার পরও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ার কারণ কী? শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি যদি ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়, তাহলে তাদের নিয়মিত ক্লাসে আনা এবং পড়াশোনায় মনোযোগী করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর উদ্যোগ কতটা ছিল—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কেকে/এআই