নেত্রকোনার মদন উপজেলার বালালী বাঘমারা উচ্চবিদ্যালয়ের স্টোররুমে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মোস্তফা কামাল হিরণের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় গত দুইদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসছেন না প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীমের কাছে লিখিত এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিদ্যালয়ের স্টোররুমে থাকা বিভিন্ন পুরোনো আসবাবপত্র কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল হিরণের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এ নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদারের অভিযোগ, আসবাবপত্র বিক্রির বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর অফিস সহকারী হিরণ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে হিরণ মারধরের জন্য তেড়ে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে শিক্ষকরা তাকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন, বিদ্যালয়ের মালামাল অনুমতি ছাড়া কেন বিক্রি করা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিরণ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে মঙ্গলবার ও বুধবার বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, স্টোররুমে থাকা স্টিলের দরজা-জানালা, মোটর, পুরোনো কম্পিউটার, স্টিলের বেঞ্চ, টিনসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। তাদের দাবি, এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘সাংবাদিকরা চলে যাওয়ার পর আসবাবপত্র বিক্রির বিষয়ে হিরণের কাছে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে শিক্ষক রেজাউল করিম কায়েস আমাকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি বলেই দুই দিন বিদ্যালয়ে যেতে পারিনি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক রেজাউল করিম কায়েস বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীরা চলে যাওয়ার পর হিরণ প্রধান শিক্ষকের প্রতি উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং তেড়ে আসেন। পরে আমি হেড স্যারকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিই।’
অভিযোগের বিষয়ে নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোস্তফা কামাল হিরণ বলেন, ‘সাংবাদিকরা চলে যাওয়ার পর হেড স্যার আমাকে আসবাবপত্র বিক্রির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে দুজনের মধ্যে উচ্চস্বরে কথাকাটাকাটি হয়। এর বেশি কিছু হয়নি। আমি স্যারকে মারতে যাইনি। এ সব অভিযোগ মিথ্যা।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল বারী বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। স্টোররুম থেকে আসবাবপত্র খোয়া যাওয়ার বিষয়ে এবং প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘অফিস সহকারীর হুমকির কারণে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না—এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি থানায় দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে ওসিকে বলা হয়েছে।’
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, ‘অভিযোগটি এখনো আমার হাতে পৌঁছেনি। হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই