নীলফামারী সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে এক সহকারী শিক্ষককে কাগজে-কলমে ‘প্রধান শিক্ষক’ বানিয়ে উচ্চতর লিডারশিপ ট্রেনিংয়ে পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথিতে অসত্য তথ্য দিয়ে জাতীয়করণকৃত একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে এ মনোনয়ন দেওয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) উদ্যোগে আগামী ৩-৭ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারের লিডারশিপ ট্রেনিং সেন্টারে (এলটিসি) পাঁচ দিনব্যাপী ‘অ্যাডভান্সড লিডারশিপ’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ (১ম ব্যাচ) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রশিক্ষণটি কেবলমাত্র মনোনীত ‘প্রধান শিক্ষকদের’ জন্য নির্ধারিত। গত ২৯ সেপ্টেম্বর জারি করা এক সরকারি অফিস আদেশে (স্মারক নম্বর: ৩৮.০১.২২০০.০০০.০০.১৯.০০০৫.২৬.০২) প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ৩০ জন শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
উক্ত আদেশের ২৯ নম্বর ক্রমিকে নীলফামারী সদরের ‘পূর্ব গুড়গুড়ী বেগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-র শিক্ষক মো. আমিনুর রহমানকে ‘প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। অথচ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, মো. আমিনুর রহমান মূলত একজন সহকারী শিক্ষক। বিদ্যালয়টি পূর্বে বেসরকারি ছিল। পরবর্তী অধিগ্রহণ করে সরকারি করা হলে, সরকারি বিধি ও মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী জাতীয়করণকৃত এ সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ‘সহকারী শিক্ষক’ হিসেবে পদায়িত হন। ফলে আইনগতভাবে তার নামের পাশে ‘প্রধান শিক্ষক’ পদবি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।
প্রশ্নবিদ্ধ উপজেলা শিক্ষা অফিসের ভূমিকা
প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেই শিক্ষকদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয় সরাসরি কোনো নাম যুক্ত করে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে-
উপজেলা শিক্ষা অফিস কীভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই বা তথ্য গোপন করে একজন সহকারী শিক্ষককে ‘প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে সুপারিশ করল? এটি কি কেবলই প্রশাসনিক গাফিলতি, নাকি আর্থিক বা বিশেষ কোনো সুবিধার বিনিময়ে করা জালিয়াতি? বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা কেন দেওয়া হয়নি?
শিক্ষক সমাজের ক্ষোভ ও আশঙ্কা
সাধারণ শিক্ষকরা বলছেন, উপজেলার অনেক যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক যখন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। তখন তথ্য গোপন করে একজন সহকারী শিক্ষককে সেখানে পাঠানো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় অশনিসংকেত।
এ অবস্থায় সাধারণ শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে এ ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়ন বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এ জালিয়াতির নেপথ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
কেকে/এআই