বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধিতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন শিক্ষকরা। এক্ষেত্রে আমরা নতুন কিছু আইডিয়া ব্যবহার করতে পারি।
আজকের উপস্থিতি চ্যাম্পিয়ন :
প্রতিদিন যে শ্রেণির উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, তাদের শ্রেণির সামনে একটি ছোট 🏆 ‘আজকের চ্যাম্পিয়ন’ কার্ড ঝুলিয়ে দিই।
তিন দিনের চ্যালেঞ্জ :
যে শিক্ষার্থী টানা তিন দিন উপস্থিত থাকবে, তার খাতায় একটি ⭐ স্টার দেওয়া হবে। ১০টি স্টার হলে একটি ‘অভিনন্দন কার্ড’।
এক বন্ধু, এক বন্ধু :
যে শিক্ষার্থী নিয়মিত আসে, সে একজন অনিয়মিত বন্ধুকে প্রতিদিন স্কুলে আসতে উৎসাহিত করবে।
শিক্ষকের ধন্যবাদ ফোন :
প্রতি সপ্তাহে মাত্র পাঁচজন অভিভাবককে ফোন করে বলি— ‘আপনার সন্তান নিয়মিত আসছে, আপনাকে ধন্যবাদ।’ এই একটি ফোন অনেক অভিভাবককে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুপস্থিতির কারণ জানি :
টানা দুই দিন অনুপস্থিত থাকলে কারণ লিখে রাখি। একই সমস্যা বারবার হলে সমাধানের চেষ্টা করি।
হাসিমুখ বোর্ড :
নিয়মিত উপস্থিত শিক্ষার্থীর ছবি বা নাম একটি বোর্ডে লাগাই। শিশুরা নিজের নাম দেখতে খুব পছন্দ করে।
অভিভাবক বন্ধু :
প্রতি শ্রেণিতে ২-৩ জন সচেতন অভিভাবককে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত করি। তারা অন্য অভিভাবকদের সভা ও বিদ্যালয়ের খবর জানাবেন।
সপ্তাহে ১০ মিনিট :
প্রতি সপ্তাহের শেষ দিনে ১০ মিনিট গল্প, গান, কুইজ বা মজার কার্যক্রম রাখি। শিশুরা সেই আনন্দের জন্যও স্কুলে আসতে আগ্রহী হবে।
উন্নতির করতালি :
যে শিক্ষার্থী আগের মাসের তুলনায় বেশি উপস্থিত হয়েছে, তাকে পুরো ক্লাসের করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানাই। কোনো খরচ নেই, কিন্তু উৎসাহ অনেক।
আমরা তোমাকে মিস করেছি :
অনুপস্থিত শিক্ষার্থী ফিরে এলে তাকে বকা না দিয়ে বলি— ‘তোমাকে আমরা মিস করেছি।’ এই একটি বাক্য শিশুর স্কুলের প্রতি ভালোবাসা বাড়াতে পারে।
সফলতার চাবিকাঠি :
শাস্তি নয়, উৎসাহ। বড় পুরস্কার নয়, ছোট ছোট স্বীকৃতি। নিয়মিত যোগাযোগ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক—তিন পক্ষের একসাথে কাজের সমন্বয়েই শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত ও নিরাপদ হবে।
প্রধান শিক্ষক
খুরুশকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কক্সবাজার।
কেকে/এমএ