রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন      অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ      জবাবদিহিতা থাকলে সরকারের পদক্ষেপ জনকল্যাণমুখী হবে      দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস      টুইট করে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যাবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান ইরানের      প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর : নিরাপত্তায় পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ      পাঁচ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা, হতে পারে ভারী বর্ষণ      
জাতীয়
‘বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই’—প্রধানমন্ত্রী
আলতাফ হোসেন, কিশোরগঞ্জ থেকে
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৪ পিএম আপডেট: ১৬.০৮.২০২৬ ২:১৭ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “বিএনপির রাজনীতির লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষ, বিশেষ করে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।”

কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন।”

রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মাছের পোনা বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নদীতে আজ যে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো বড় হবে, ডিম দেবে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর সুফল বাংলাদেশের মানুষই পাবে।” মৎস্যসম্পদের উন্নয়নের এই উদ্যোগকে বৃহত্তর কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষ ও গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে বিএনপি খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলেছিল। সরকার গঠনের পর সারাদেশে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানির সুবিধা পাবেন।”

খনন করা খালের পানির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “ধীরে ধীরে দেশের বড় বড় নদী ও খালগুলোতে মাছের চাষ গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার পরিকল্পনা

কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নারী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দায়িত্বে থাকাকালে নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সব খরচ সরকার বহন করবে।

তিনি মা-বোনদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে তাদেরই দেশের হাল ধরতে হবে। যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছে প্রতিবছর নতুন বইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।”

‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষি কার্ড’

নারী সমাজকে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক পরিবারের প্রধান নারী বা মায়ের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ জেলায় এদিন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকদের বছরে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

আলেম-ইমামদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ

সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশের আলেম সমাজ, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে স্পোর্টসের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তরুণরা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারে এবং পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, “সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।”

‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা রুখে দাঁড়াতে হবে’

সরকারের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই কিছু রাজনৈতিক দল বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে।

তিনি জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে কি না। এরপর তিনি বলেন, এসব কাজে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে, রাজপথে বিশৃঙ্খলা করলে কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যারা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে জনগণই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এখন দেশের সামনে কাজ করার এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সময়।

‘রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে’

বিগত সময়ে দেশের অর্থ-সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সবাইকে হাতে হাত রেখে রাষ্ট্র মেরামত ও দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, “এই দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছিল। তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একদিনে দেশের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। স্বৈরাচার দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। ফলে এসব খাত পুনর্গঠনে সময় প্রয়োজন হবে।”

‘জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনা সংসদে’

বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, অতীতে অপরিকল্পিতভাবে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হয়ে যারা আগে ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণের জন্য কাজ করেনি। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কাজ করছে।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে আগামী ১০ বছরের জন্য বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে সরকার।

তিনি বলেন, “যেকোনো সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধরতে হবে। সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।”

‘বিএনপি জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপির প্রতি যে আস্থা ও সমর্থন জানিয়েছে, সেই আস্থা ধরে রাখতে হবে। বিএনপি অতীতেও জনগণের জন্য কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।”

তিনি বলেন, “দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা, আইনের শাসন, কর্মসংস্থান ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণের পাশে বিএনপি আছে এবং জনগণের জন্যই দলটি কাজ করবে।”

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  বাংলাদেশ   কল্যাণমুখী রাষ্ট্র   প্রধানমন্ত্রী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close