বন অধিদপ্তরে ডেপুটি রেঞ্জার থেকে রেঞ্জার পদে পদোন্নতি ঘিরে বন বিভাগের একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রটি ডেপুটি রেঞ্জারদের পদোন্নতি প্রশ্নবিদ্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে। এই চক্রটি বন বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
৪১৮ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে শতকোটি টাকা লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ এসব অভিযোগের সঠিক কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই বলে বন বিভাগে কর্মরতদের অভিযোগ।
বন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশাসনিক ও বিধিবদ্ধ পদোন্নতি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যেন ৪১৮ জনের পদোন্নতি কোনো ব্যক্তি বা একটি সিন্ডিকেটের ইচ্ছায় সম্পন্ন হচ্ছে। বাস্তবে বিষয়টি চলতি বিধি-বিধান মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
ডেপুটি রেঞ্জারদের পদোন্নতির সুপারিশ কোনো একক ব্যক্তি বা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে করা হয়নি। বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে সরকারি বিধিমালা, চাকরির রেকর্ড, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা, চাকরির মেয়াদ, বিভাগীয় মামলা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই-বাছাই করেই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একটি বহুপক্ষীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কমিটির কার্যক্রমকে কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত কিংবা ‘সিন্ডিকেটের বাণিজ্য’ হিসেবে চিত্রিত করা বাস্তব প্রশাসনিক ও শৃঙ্খল কাঠামোকে বিকৃত করার শামিল।
পদোন্নতি প্রত্যাশী ডেপুটি রেঞ্জাররা জানান, গ্রেডেশন তালিকা কোনো রাতারাতি তৈরি করা তালিকা নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগের তারিখ, চাকরি নিয়মিতকরণের তারিখ, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এমনকি গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশের পর কর্মকর্তাদের আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত অর্ধশতাধিক আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবির প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। যেখানে আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, আপত্তি গ্রহণ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে, সেখানে পুরো প্রক্রিয়াকে গোপন বা একতরফা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা, বিভাগীয় অভিযোগ বা পূর্বের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তাদের পদোন্নতির সুপারিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ থাকা এবং তার অপরাধ আইনগতভাবে প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। যোগ্যতা যাচাই করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট মামলা বা অভিযোগের তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। চূড়ান্ত পদোন্নতির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। প্রাথমিক তালিকা বা সুপারিশে কারও নাম থাকা মানেই তিনি চূড়ান্তভাবে পদোন্নতি পেয়ে গেছেন—এমন নয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানান, ৪১৮ জনের পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। অথচ এই বিশাল অঙ্কের টাকা কার কাছ থেকে কীভাবে নেওয়া হয়েছে, এর কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। নেই প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য। এত বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের বিষয়ে কোনো তদন্ত সংস্থার কার্যক্রম ও তদন্ত প্রতিবেদন নেই। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, প্রমাণ থাকলে প্রকাশ করা হোক। কিন্তু প্রমাণের আগে কাউকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. আমিরুল হাছান বলেন, “বন বিভাগের যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ এবং অন্যান্য কাজের অগ্রগতি যখনই কাজের দিশায় এগিয়ে যায়, তখনই একটি কুচক্রী মহল বিকৃত মনের পরিচয় বহন করে কাজকে বাধাগ্রস্ত করে বিতর্কিত করতে চায়। বন বিভাগের ধারাবাহিক কাজ বর্তমান সরকারের আমলে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহির আলোকে হচ্ছে। এখানে মিথ্যা খবর প্রকাশ করে কোনো লাভ নেই।”
বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বনবিদ পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ জানান, বিগত দিনে একটি কুচক্রী মহল ফরেস্টারদের ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। ফরেস্টাররা বিধিগতভাবে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এতে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ফরেস্টাররা। এখন ডেপুটি রেঞ্জারদের রেঞ্জার পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ওই একই চক্র চক্রান্ত করে যাচ্ছে। বন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
কেকে/সাশ