বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১০৩২      ● আগামী ১০ বছরেরও হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার      ● প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, যুবক আটক      ● শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা      ● সৌহার্দ্য ও দেশপ্রেম জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ক্রীড়া : প্রধানমন্ত্রী      ● সৌদি আরবের তিন রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত      ● ঢাকা-সৌদি রুটের ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা      
ধর্ম
মানুষের মনে আঘাত দেওয়া নিয়ে ইসলামের সতর্কবার্তা
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মানুষকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সবসময় হাতের আঘাত প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো কিছু শব্দই হয়ে ওঠে গভীর আঘাতের কারণ। রাগের মুহূর্তে বলা একটি কথা হয়তো কয়েক সেকেন্ডেই শেষ হয়ে যায়, কিন্তু সেই কথার কষ্ট অন্য মানুষের মনে থেকে যেতে পারে দীর্ঘদিন। ইসলাম তাই মানুষের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও দিয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

কথাবার্তায় ভদ্রতা, সংযম ও সুন্দর আচরণ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কাউকে অপমান করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কিংবা এমন কথা বলা, যাতে তার মনে কষ্ট তৈরি হয়—এসব থেকে মুসলমানদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এই হাদিসে কথার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কথা বলার আগে সেটি অন্যের জন্য কল্যাণকর কি না, তা বিবেচনা করা উচিত। ভালো কথা বলার সুযোগ না থাকলে নীরব থাকাও ইসলামের শিক্ষা।

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এখানে জিহ্বাকে হাতের পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের ক্ষতি শুধু কাজের মাধ্যমে নয়, কথার মাধ্যমেও হতে পারে। কটু কথা, অপমান, গালি কিংবা কাউকে হেয় করার মাধ্যমে অন্যের মনে যে আঘাত দেওয়া হয়, ইসলাম তা থেকে সতর্ক করেছে।

কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাও ইসলামে নিন্দনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।” (সহিহ মুসলিম)

তাই কারও চেহারা, সামর্থ্য, আর্থিক অবস্থা, শিক্ষা, পেশা কিংবা ব্যক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে বিদ্রূপ করা একজন মুমিনের আচরণ হতে পারে না। বরং মানুষের সম্মান রক্ষা করা এবং তার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করাই ইসলামের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কথার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাগ নিয়ন্ত্রণ। রাগের মুহূর্তে মানুষ অনেক সময় এমন কথা বলে ফেলে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় হয়তো কখনোই বলত না। পরে অনুতপ্ত হলেও বলা কথাটি আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। তাই রাগের সময় নীরব থাকা, নিজেকে সংযত করা এবং পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর কথা বলা ইসলামী আদবের অংশ।

ইসলামের সৌন্দর্য শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটিও একজন মানুষের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। কারও মনে কষ্ট না দেওয়া, অন্যকে সম্মান করা এবং মুখের কথায় সংযমী থাকা তাই একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

একটি সুন্দর কথা যেমন মানুষের মন ভালো করে দিতে পারে, তেমনি একটি কঠিন বাক্যও কাউকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে পারে। তাই কথা বলার আগে একটু থামা, ভাবা এবং প্রয়োজন হলে নীরব থাকা—এটাই হতে পারে ইসলামের সেই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ।


কেকে/সাশ 




আরও সংবাদ   বিষয়:  ইসলাম   কটু কথা   সতর্কবার্তা   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

ধর্ম- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close