চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ৪০০ জন কৃতি শিক্ষর্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে চবি শাখা ছাত্রশিবির।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টায় চবির আইন অনুষদের একে খান অটোরিয়ামে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, বিশেষ অতিথি স্থানীয় জামায়াত নেতা চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল মালেক চৌধুরী, চাকসু জিএস ও শিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইদ বিন হাবীব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাকসু ভিপি ও চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, স্বাগত বক্তব্য দেন শিবিরের অর্থ সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা এবং সমাপনী বক্তব্য দেন চবি ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক রবিউল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আব্দুল মালেক চৌধুরী বলেন, ‘তরুণ ও মেধাবীদের চাকরির পিছে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তা হতে বিপুল অর্থ বা পুঁজির চেয়ে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় মূলধন। যোগ্য ও সফল উদ্যোক্তা হতে পারলে চাকরির পেছনে ছুটতে হয় না, বরং চাকরি নিজেই উদ্যোক্তার পেছনে ছুটে আসে। শুধু বিসিএস ক্যাডার বা বড় পদমর্যাদা অর্জন করলেই জীবনে সফল হওয়া যায় না, যদি তাতে দুর্নীতির তকমা থাকে। একজন অসৎ কর্মকর্তার চেয়ে নীতিবান, আদর্শবান ও সৎ নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করা অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘চাকরি কেবল অন্যের অধীনে কাজ করার পথ নিশ্চিত করে, যা প্রকৃত সম্মান বা আত্মতৃপ্তি দিতে পারে না। চাকরিতে আর্থিক লাভ মিললেও সামাজিক প্রকৃত মর্যাদা মেলে না। দেশের উচ্চপদস্থ আমলা বা সচিবদের দুর্নীতিগ্রস্ত আচরণ এদেশের অগ্রগতিতে প্রধান বাধা। অনৈতিক উপায়ে অর্জিত পদের চেয়ে সাধারণ জীবনযাপন অনেক বেশি সম্মানজনক।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান বলেন, ‘শর্টকাটে ধনী হওয়ার মানসিকতা, অন্যের অর্থ আত্মসাৎ এবং কলমের এক খোঁচায় কোটি কোটি টাকা লুটপাট বন্ধ না হলে দেশ এগোবে না এবং সিঙ্গাপুর গড়ার স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।’
কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এ পরিস্থিতি বদলাতে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টানসহ দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়নের কাজে নামতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে আগামীর সমাজ পরিচালনায় নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাকসু ভিপি ও চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘আপনি যদি সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন, বন্ধু নির্বাচনে ব্যর্থ হন নতুবা নিজের ভালো ফলাফল নিয়ে কেবল বসে থাকেন তাহলে সফল হতে পারবেন না। নিজের ফলাফল ও যোগ্যতা অর্জনের মধ্যে দিয়ে এদেশের একজন যোগ্য নাগরিক হয়ে উঠতে হবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ+ পেলেই কেবল জীবনের সফলতা আসে না। আমরা ভালো ফলাফল করবো এবং নিজেদের মধ্যে মনুষ্যত্ব বিকাশে কাজ করবো। আমরা যেভাবে ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকবো, ভালো ফলাফল করবো, তেমনিভাবে নিজেদের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবো। প্রতিটি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবো। জাতিকে পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে আমাদের নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভালো মানুষ হতে হলে সৎ ও যোগ্য হওয়ার বিকল্প নেই, যার জন্য প্রয়োজন একটি ভালো পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাকুসর সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক হারেস মাতব্বর, ক্রীড়া সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক রিয়াদ হোসেন, আইটি সম্পাদক আবিদুর রহমান, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শিবিরের মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক হারুনুর রশীদ এবং স্কুল ও কলেজ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম।
কেকে/এআই