বিশ্বকাপ ফাইনালে ১২০ মিনিট খেলেও স্পেনের জালে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। সেই আক্ষেপই কি এবার গোলের বন্যায় মেটাচ্ছে দলটি? প্রস্তুতি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে একের পর এক গোলের ধাক্কা দিয়ে সেই প্রশ্নই যেন তুলে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারানোর পর এবার বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবল ছিল চোখে পড়ার মতো। লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজ, জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো ও জুলিয়ানো সিমিওনে—গোলের তালিকায় নাম তুলেছেন একাধিক খেলোয়াড়।
প্রতিপক্ষের গোলমুখে আর্জেন্টিনা মোট ২৮টি শট নিয়েছে, যার ১৬টিই ছিল লক্ষ্যে।
ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তৃতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের নেওয়া পেনাল্টি বুরকিনা ফাসোর গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। তবে ফিরতি বল থেকে গোল করে ভুল শুধরে নেন লাউতারো।
এর ছয় মিনিট পর হুলিয়ান আলভারেজের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন মুমুনি দিয়ালো। ফলে ৯ মিনিটের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
১২ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন জিয়ালুকা প্রেস্তিয়ানি। লাউতারো মার্তিনেজের সঙ্গে দারুণ পাস দেওয়া-নেওয়ার পর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
৩৪ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান নিকো পাজ। ম্যাক অ্যালিস্টারের দারুণ থ্রু পাস পেয়ে গোল করেন তিনি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন এই তরুণ।
দুই মিনিট পরই আর্জেন্টিনার পঞ্চম গোল। প্রেস্তিয়ানির পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একসঙ্গে পাঁচটি পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। রক্ষণ ও আক্রমণে একাধিক খেলোয়াড় বদল করেও দলের গতি কমেনি।
৫৬ মিনিটের দিকে ষষ্ঠ গোলটি করেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। লাউতারোর পাস পেয়ে গোলরক্ষক এগিয়ে আসার আগেই বল জালে পাঠান ফিওরেন্তিনার এই ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে এটি তাঁর প্রথম গোল।
এরপর আরও কয়েক দফা পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। মাঠে নামেন নিকো গনসালেজ, জুলিয়ানো সিমিওনে, সান্তি কাস্ত্রো, এসেকিয়েল পালাসিওস ও ভালেন্তিন বার্কো। শেষ দিকে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হেরোনিমো রুল্লি।
ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে আর্জেন্টিনার সপ্তম গোল। দারুণ একটি ক্রস থেকে হেডে গোল করেন জুলিয়ানো সিমিওনে।
শেষ পর্যন্ত ৭-০ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ জয়ের পর বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ জয়—টানা দুই প্রস্তুতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১১টি। শুধু ফরোয়ার্ডরা নন, মিডফিল্ডাররাও গোলের খাতায় নাম তুলেছেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালের হতাশাজনক সেই ১২০ মিনিটের পর প্রস্তুতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার এমন গোলবন্যা সমর্থকদের আক্ষেপ কিছুটা হলেও কমাচ্ছে কি না, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
কেকে/ এমএস