রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৩, মোটরসাইকেলেই ১৩৯      ● ভবিষ্যতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত হবে না: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী      ● মদিনায় হুতিদের হামলায় বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা      ● সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ শুরু কাল      ● দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে : অর্থমন্ত্রী      ● সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারসহ রাজধানীর চার বারে অভিযান      ● বঙ্গোপসাগরকে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলা‌দেশ : মুনীরুজ্জামান      
প্রিয় ক্যাম্পাস
গকসুর ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদক অন্তরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
মো. রাজিউল ইসলাম শান্ত, গবি
প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
গকসুর ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদক অন্তর। ছবি : প্রতিনিধি

গকসুর ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদক অন্তর। ছবি : প্রতিনিধি

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর ও তার বন্ধু জাহিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) অভ্যন্তরীণ ক্যান্টিনের মালিক। 

শনিবার (৩ অক্টোবর) এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে অস্বীকার করেছেন অন্তর ও জাহিদ। পাল্টা ক্যান্টিন মালিকের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা।

এর আগে, ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকালে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যান্টিনটি তালাবদ্ধ করেন গকসু নেতারা। পরে এ নিয়ে ক্যান্টিন মালিকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে।

ক্যান্টিন মালিক বাবু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্তর ও জাহিদ বিভিন্ন সময় আমার কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে ঝামেলা করা, ক্যাশের সামনে গিয়ে বিশৃঙ্খলা করা, ক্যান্টিন থেকে বের করে দেওয়া এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হতো। ওদের জন্য আমার প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে এবং জাহিদ আমার থেকে একটি চেকও নিয়েছে।’

বাবু মিয়া আরও দাবি করেন, ‘অন্তর প্রতিদিন আমার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিতেন। এ ছাড়া ক্যান্টিনের জামানত বাবদ অন্তরকে ৬০ হাজার টাকা এবং আংশিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছি।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অন্তর বলেন, তার বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় তিনি ক্যান্টিন মালিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন বলেও জানান। ৬০ হাজার টাকা ও প্রতিদিন এক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘তিনি যদি সত্যিই আমাকে এত টাকা দিয়ে থাকেন, তাহলে তার প্রমাণ উপস্থাপন করা উচিত।’

অন্তর আরও দাবি করেন, ক্যান্টিন মালিকের প্রায় আট মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। বিভিন্ন দোকানদার ও ক্যান্টিন কর্মচারীর পাওনা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ক্যান্টিন মালিক এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ধাপে ধাপে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ নিয়ে চেকের মামলাও চলমান রয়েছে।

চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদ বলেন, ‘এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি যে অভিযোগ করেছেন, সেটি মিথ্যা। ক্যান্টিন মালিকের সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ছিল এবং ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য ১৮ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমার ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।’

এ ঘটনায় জাহিদ আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেছেন। এতে তিনি ক্যান্টিন মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচার এবং হুমকির অভিযোগ এনে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনের খাবারের উচ্চমূল্য, নিম্নমান ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন। বারবার ক্যান্টিন মালিককে অবগত করা হলেও কোনো সুফল না মেলায় ক্যান্টিনটি তালাবদ্ধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংসদের নেতারা। এ ছাড়া জামানতের টাকা পরিশোধ না করা, বিদ্যুৎ ও জেনারেটরের বিল বকেয়া রাখা, শিশুশ্রম, বাসি খাবার বিক্রি এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ফলশ্রুতিতে, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকালে গকসুর কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুর রহিম এবং সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তরসহ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন তালাবদ্ধ করেন। এ সময় গকসুর নেতারা জানান, ক্যান্টিনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে ক্যান্টিন কমিটির সভাপতি ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু রায়হানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সার্বিক বিষয়ে গকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদূল দেওয়ান বলেন, ‘ক্যান্টিন মালিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল। বিদ্যুৎ বিল ও জামানতের বকেয়া পরিশোধ করার জন্য ক্যান্টিন মালিককে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। এতে ক্যান্টিন কমিটি জোর করে বকেয়া অর্থ উত্তোলন করলেও সম্পূর্ণ অর্থ এখনো পরিশোধ হয়নি। ক্যান্টিনের খাবারের মান ও পরিবেশ নিয়ে বারবার সতর্ক করার পরেও কোনো সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ক্যান্টিন তালাবদ্ধ করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যান্টিন সংস্কার করে স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।’

সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদকের বিরুদ্ধে আসা চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে মৃদূল দেওয়ান বলেন, ‘অভিযোগটি আসলে মিথ্যা। তবে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করলে খতিয়ে দেখা হবে। মূলত ক্যান্টিন মালিকের কাছে বিভিন্ন দোকানদার ও তাঁর কর্মচারীদের অনেক পাওনা আছে। সে ক্যান্টিন চালাতে পারছে না। সার্বিক বিষয়ে আজ ক্যান্টিন কমিটি, ছাত্র সংসদ ও ক্যান্টিন মালিককে নিয়ে প্রশাসনে সালিশ বসবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘ক্যান্টিনে তালা দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে ক্যান্টিন কমিটির সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়েও আমি অবগত নই। আমার কাছে অভিযোগ আসেনি।’

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

প্রিয় ক্যাম্পাস- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close