আমাদের জীবন থেকে একসময় হারিয়ে যান অনেক প্রিয় মানুষ। জীবদ্দশায় তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা কিংবা দোয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের সীমাবদ্ধতা আমরা অনেক সময় উপলব্ধি করতে পারি তাদের চিরবিদায়ের পর। তখন চাইলেও আর তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া কিংবা নতুন করে ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ থাকে না। তবে মৃত স্বজনদের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ থেকে যায়।
আজ শুক্রবার, মুসলমানদের কাছে একটি ফজিলতপূর্ণ দিন। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও এ দিনে অনেকে নামাজ, দোয়া, কবর জিয়ারত ও দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। মৃত স্বজনদের জন্য দোয়া যেকোনো দিনই করা যায়। তবে জুমার দিনের বিশেষ ফজিলতের কারণে এ দিনেও তাদের জন্য বেশি বেশি দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন।
মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া: সওয়াব পৌঁছানোর অন্যতম মাধ্যম
ইসলামে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় থেকে সওয়াব অব্যাহত থাকে।
আরবি হাদিসে এসেছে—
إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
অর্থ: ‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি বিষয় ছাড়া—সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’
—সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৩১।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মৃত ব্যক্তির জন্য নেক সন্তানের দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাবা-মা ও অন্যান্য মৃত স্বজনের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও জান্নাত প্রার্থনা করা উচিত।
পূর্বসূরিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
মৃত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা ও রহমত কামনা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। পবিত্র কোরআনে হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত নুহ (আ.)-এর দোয়ায় নিজেদের এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এসব দোয়া থেকে মুমিনদের জন্য ক্ষমা চাওয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়।
মৃত স্বজনদের জন্য দোয়া করার সময় তাদের গুনাহ ক্ষমা, কবরের জীবন সহজ করা, কবরের আজাব থেকে রক্ষা এবং আখিরাতে জান্নাত দানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেতে পারে।
কবর জিয়ারতে যে দোয়া পড়বেন
রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরস্থানে গিয়ে মৃত ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করতেন। কবর জিয়ারতের সময় মৃতদের সালাম দেওয়া এবং তাঁদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা সুন্নাহসম্মত আমল।
এ সময় পড়া যায়—
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ، يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ، أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ
উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম; আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আসারি।
অর্থ: ‘হে কবরবাসীগণ, আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ক্ষমা করুন। আপনারা আমাদের আগে চলে গেছেন, আর আমরা আপনাদের পরে আসছি।’
—সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১০৫৩।
মৃত স্বজনদের স্মরণ করার পাশাপাশি তাদের জন্য নিয়মিত দোয়া করা, সামর্থ্য অনুযায়ী সদকা করা এবং তাদের রেখে যাওয়া ভালো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রিয়জনকে হারানোর শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে তাঁদের জন্য আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা কামনা করা জীবিতদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
কেকে/সাশ