মৌলভীবাজারে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলাজুড়ে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৩১৬ জন। সরকারি পরীক্ষাগারে ১৭১ জনের শরীরে হাম এবং দুজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু, নিউমোনিয়া, তীব্র জ্বর ও ডায়রিয়ার রোগী বাড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি আরও চাপে পড়েছে।
জেলার সাতটি উপজেলাতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কুলাউড়ায় সর্বোচ্চ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে তিনজন করে মোট নয়জন এবং রাজনগর, জুড়ী ও বড়লেখায় একজন করে আরও তিনজন মারা গেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ জুন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪২ বছর বয়সী সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। পরদিন ১৮ জুন সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্থানীয় শিক্ষক শুয়েব। এ ছাড়া ২০ জুন সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যান দেওরাছড়া চা বাগানের শ্রমিক সীমা মুণ্ডা।
রোগীর চাপে হাসপাতাল, মেঝেতেও চিকিৎসা
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর চাপ বেড়েছে। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদেরও সেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে ৪৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯ জন শিশু ও ডেঙ্গু আক্রান্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেডিসিন ওয়ার্ডে ১০২ জন, শিশু ওয়ার্ডে ৩৭ জন, শিশু স্ক্যানু (এসসিএএনইউ) ওয়ার্ডে ১৮ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত, উঠছে প্রশ্ন
হামের মতো টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগের ব্যাপক সংক্রমণ ও প্রাণহানিতে উদ্বেগ বাড়ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকার পরও কেন অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
মৌলভীবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জাকির হোসেন বলেন, টিকা নেওয়ার পরও কিছু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তবে টিকার গুণগত মান, সংরক্ষণব্যবস্থা কিংবা টিকাদান কর্মসূচির তদারকিতে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। বিষয়টি যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেকে/সাশ