সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) নতুন লিফট স্থাপনের অনুমোদন না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। তার দাবি, লিফট স্থাপনের উদ্যোগে ট্রাস্টি বোর্ডের বাধা রয়েছে। সমস্যা সমাধানে এক বছর চেষ্টা করেও সফল হননি তারা। তবে আগামী বছরও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে গকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারুফ হাসানের (Ma Ruff) ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এসব কথা বলেন ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান।
ভিডিওতে ভিপি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে ছাত্র সংসদের যেসব বিষয়ে জবাবদিহি করতে হচ্ছে, তার মধ্যে লিফট-সংকট অন্যতম। নিচতলা থেকে পাঁচতলায় উঠতে নিজেরও কষ্ট হয় বলে জানান তিনি। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারেও লিফটের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি ছিল। ফলে বিষয়টি নিয়ে তাঁদের বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
নির্বাচনের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে জানান ইয়াসিন। উপাচার্য একই সঙ্গে ছাত্র সংসদের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। তার কাছ থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকটি লিফট বসানোর উপযুক্ত জায়গা রয়েছে এবং তিনিও সেখানে লিফট স্থাপনের পক্ষে।
ইয়াসিনের ভাষ্য, একটি লিফট স্থাপনে আনুমানিক ২০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই ব্যয় খুব বেশি নয়। তবে তাঁর অভিযোগ, মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে ট্রাস্টি বোর্ডের অবস্থানের কারণে।
তিনি বলেন, ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রয়াত জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নীতির কথা তুলে ধরা হয়। ওই নীতি অনুযায়ী, আগে শিক্ষার্থীদের লিফট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতো না; শুধু বয়স্ক শিক্ষকেরা লিফট ব্যবহার করতেন। তবে বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভবনের বিভিন্ন তলায় সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা কষ্টকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ধারণা, ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন না মেলায় নতুন লিফট স্থাপনের উদ্যোগ এগোচ্ছে না।
ভিপি বলেন, এক বছর চেষ্টা করেও তারা সফল হননি। তারপরও আগামী এক বছর এ বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র সংসদ বিষয়টি নিয়ে দাবি জানাতে ও উদ্যোগ নিতে পারে। কিন্তু লিফট স্থাপনের অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ট্রাস্টি বোর্ডের। গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীদের বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণেই লিফটের সমস্যা নিয়ে তাদের বেশি জবাবদিহি করতে হচ্ছে।
কেকে/সাশ