সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ডেঙ্গুর দাপট চলছেই, আরও পাঁচজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২২১৮      ● হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৬৬      ● সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারেও পিছপা হবে না পুলিশ      ● চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ● তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন আশার আলো জাপানের বাজার      ● গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে সোমবার      ● সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের দরজা খুলছে, মানতে হবে শর্ত-গুনতে হবে ফিও      
বিনোদন
গানের সুরে কেটেছে ৭০ বছর, আজও গানই বেঁচে থাকার অবলম্বন
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৯ পিএম
গায়ক ঠাকুর পদ সরকার। ছবি : প্রতিনিধি

গায়ক ঠাকুর পদ সরকার। ছবি : প্রতিনিধি

একসময় মঞ্চে উঠতেন, গান গাইতেন, অভিনয়ে মাতিয়ে রাখতেন দর্শকদের। বাদ্যযন্ত্রের সুরে প্রাণ পেত আসর। সেই শিল্পীজীবনে কত স্মৃতি, কত মানুষের ভালোবাসা আর কত পুরস্কার জমা হয়েছে তার ঝুলিতে। অথচ সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সবকিছু। বয়স এখন ৮২ বছর। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে শিল্পের সঙ্গে থাকা ঠাকুর পদ সরকার এখনও গান করেন, কিন্তু আগের মতো আর ডাক আসে না। শিল্পীর জীবনে এই নীরব পরিবর্তন যেন এক দীর্ঘ পথচলার বিষণ্ন অধ্যায়।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার কাকীলাখালি গ্রামে জন্ম ঠাকুর পদ সরকারের। তার বাবা পঞ্চানন সরকার। জীবনের প্রায় ৭০ বছর তিনি কাটিয়েছেন গানের জগতে। গান তার কাছে শুধু বিনোদন কিংবা জীবিকা নয়, এটি তার ভালোবাসা, তার অভ্যাস, তার বেঁচে থাকার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তার শিল্পীজীবনের পরিধি ছিল বহুমুখী। ‘রূপবান’, ‘সাগরভাসা’, ‘রাখাল বন্দি’, ‘মানিক যাত্রা’, ‘বন্দির ছেলে’, ‘রঘু ডাকাত’ ও ‘ইমাম যাত্রা’র মতো যাত্রাপালায় যুক্ত ছিলেন তিনি। নামকীর্তন, অধিবাস কীর্তন, পালাকীর্তন ও রামায়ণ পরিবেশনাতেও ছিল তার অংশগ্রহণ। গানের পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র বাজানো এবং অভিনয়েও ছিলেন দক্ষ। মঞ্চের পরিবেশ, চরিত্রের অভিনয় আর সুরের মূর্ছনায় দর্শকদের আনন্দ দেওয়াই ছিল তার শিল্পীজীবনের পরিচিত ছবি।

বিভিন্ন মঞ্চে গান গেয়ে পেয়েছেন পুরস্কার ও সম্মাননা। সেই স্বীকৃতিগুলো তার দীর্ঘ সাধনার স্মারক। কিন্তু একজন শিল্পীর জীবনে পুরস্কারের চেয়েও বড় প্রাপ্তি হয়তো শ্রোতার ভালোবাসা, আবার সবচেয়ে বড় কষ্ট হতে পারে সেই পরিচিত মঞ্চ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়া।

ঠাকুর পদ সরকার এখনও গান করেন। তবে বয়সের কারণে আগের মতো অনুষ্ঠান থেকে ডাক পান না। যে মানুষটির জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে মঞ্চে, গান আর অভিনয়ের পরিবেশে, তার কাছে এই পরিবর্তন কতটা বেদনাদায়ক, তা সহজেই অনুভব করা যায়। শিল্পীর কণ্ঠে গান থাকতে পারে, মনে থাকতে পারে অসংখ্য সুর ও সংলাপ; কিন্তু সেই প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ না মিললে মনেও জমে নিঃসঙ্গতা।

ঠাকুর পদ সরকার বলেন, ‘গান নিয়েই আমার জীবনের এতগুলো বছর কেটে গেছে। গান করেছি, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়েছি, অভিনয় করেছি। বিভিন্ন মঞ্চে গান গেয়ে পুরস্কার পেয়েছি, মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এখনও গান করি, কিন্তু বয়স হয়েছে বলে আগের মতো আর ডাক পাই না। গান ছাড়া আমি যেন কিছুই বুঝি না। যত দিন বেঁচে থাকব, গানের সঙ্গেই থাকতে চাই।’

একজন শিল্পীর জীবনের মূল্য শুধু তার বয়স কিংবা বর্তমান ব্যস্ততা দিয়ে বিচার করা যায় না। যে মানুষটি কয়েক দশক ধরে লোকজ সংস্কৃতির নানা ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তার অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি নতুন প্রজন্মের জন্য সম্পদ। ঠাকুর পদ সরকারের মতো প্রবীণ শিল্পীদের গান শোনার আয়োজন, তাদের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

সময় একদিন সবার জীবনেই পরিবর্তন আনে। মঞ্চের আলোও একসময় ম্লান হয়। কিন্তু একজন শিল্পীর সাধনা মুছে যায় না। কেশবপুরের ঠাকুর পদ সরকারের জীবনে গান আজও বেঁচে আছে—হয়তো আগের মতো ঘন ঘন মঞ্চে নয়, কিন্তু তার ভালোবাসায়, স্মৃতিতে এবং দীর্ঘ শিল্পীজীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  গান   সুর   বেঁচে   অবলম্বন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close