ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সংঘর্ষ ও দমন-পীড়নে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬৫০ জন। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কঠোর বক্তব্যে উত্তেজনাও চরমে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হলে ইরানে হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত বিকল্প’ বিবেচনা করছে। এর আগেও তিনি আন্দোলনকারীদের প্রাণহানি ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন।”
এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন রাজনীতিকদের উদ্দেশে ‘প্রতারণা বন্ধ করার’ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আজ ইরানে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারপন্থী সমাবেশগুলোর প্রশংসা করেন।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখনো ‘অনেক বিকল্প’ খোলা রয়েছে, যার মধ্যে আকাশপথে হামলাও (এয়ার স্ট্রাইক) একটি সম্ভাব্য অপশন।
বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা পল অ্যাডামস বলছেন, “ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে। একদিকে হুমকি বাস্তবায়ন না করলে তিনি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল দেখাতে পারেন, অন্যদিকে হস্তক্ষেপ করলে তা অঞ্চলজুড়ে বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
এদিকে, বিবিসি ভেরিফাই ইরানের বিক্ষোভ সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ এবং তেহরানের একটি মরচুয়ারির দৃশ্য বিশ্লেষণ করছে, যেখানে হতাহতের চিত্র উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, ইরানে এখনো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। টানা ৯৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেশটির বহু মানুষ অনলাইনের বাইরে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ডিজিটাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রভাব নিয়ে ইরানিদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি পার্সিয়ান।
কেকে/এলএ