মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে জনপ্রিতা অজর্ন করেছে ফেনীর হাতে তৈরি টুপি। জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলারা পারিবারিক কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে সংসারের অভাব-অনটন মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। ঘরে বসে এ অপার সম্ভাবনাময় হস্ত শিল্পে সরকারী মহায়তা ছাড়াই প্রত্যান্ত অঞ্চলের মহিলা বৈদেশী মুদ্রা অজর্ন করছে।
এদিকে প্রতিমাসে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার টুপি যাচ্ছে ওমানে। এ শিল্পের সাথে জড়িতরা মনে করেন সরকারী সহায়তা ও ক্ষুদ্রঋণ পেলে অপার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর, গজারিয়া ও সিলোনীয়ায় হতদরিদ্র মহিলারা, ছাগলনাইয়া উপজেলা মধুগ্রামের হতদরিদ্র মহিলারা সংসারের চাহিদা মেটাচ্ছে টুপি তৈরি করে। হতদরিদ্র পুরুষরাও অবসর সময়ে টুপির কাজ করছে। এছাড়া নোয়াখালীর আলেকজেন্ডারে হতদরিদ্র মহিলা টুপি তৈরির কাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাতে তৈরি টুপি ওমানে বিক্রি হয় ১ হাজার ২শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফেনীর ব্যবসায়ীরা প্রতিটি টুপি বিক্রি করেন ৬শ’, ৮শ’ ও ১ হাজার টাকা। কিন্তু যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে টুপি তৈরি হয় তারা প্রতি টুপিতে মাত্র ৩শ’ টাকা পায়।
এদিকে হারিয়ে যেতে বসেছে হাতে তৈরি টুপির ঐতিহ্য। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা মেশিনে তৈরি শুরু করেছে ঐতিহ্যবাহী এ টুপি। এতে করে প্রত্যান্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র মহিলারা বেকার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেশিনের তৈরি টুপি দেখতে সুন্দর দেখা গেলেও টুপিগুলো নিম্মমানের।
সরাসরি ওমানের পাঠানো এক ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, মেশিনে তৈরি টুপির কারনে ওমানে বাংলাদেশী টুপি ব্যবসায়ীদের বদনাম সৃষ্টি হচ্ছে। কারন হাতে তৈরি টুপি অনেক টেকশই হয়। আর মেশিনে তৈরি টুপি নিম্মমানের।
জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ভোলা, নওগাঁ অঙ্গলের লোকেরা ফেনী থেকে টুপি তৈরির কাঁচামাল ক্রয় করতে আসে। এখানে সূলভমূল্যে এসব কাঁচামাল পাওয়া যায়।
প্রায় ৪০ বছর যাবত চলছে হাতে তৈরি এ টুপি শিল্পের ব্যবসা। গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র মহিলারা সুই-সুতা দিয়ে টুপি তৈরি করে সংসারের অভাব দূরীকরণে সহায়তা করছে। কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজেসে এ শিল্প এখন হাতের পরিবর্তে মেশিনে চলে যাচ্ছে। এতে করে বেকার হয়ে পড়বে শতশত হতদরিদ্র মহিলারা। ফেনীর তৈরি টুপি দিয়ে ওমানে রমরমা ব্যবসা করছে বাংলাদেশের নাগরিকরা। বিদেশে টুপি রপ্তানীর সাথে জড়িত রয়েছেন ফেনীর ছাগলনাইয়ার বাবু, দাগনভূঞার সিলোনীয়ার সাহান উদ্দিন, দুলাল ও দুধমুখার বাবুল এবং নোয়াখালীর আলেজেন্ডারের আহসানসহ ২০ থেকে ২৫ জন। তারা এ ব্যবসা করে আলোর মুখ দেখেছেন।
জানাতে চাইলে নোয়াখালী অঞ্চলের আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএল, প্রেডেক্স ও এরামেক্সের একমাত্র অনুমোদিত এজেন্ট জাকির সাহেদ বলেন, “এক সময় এ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস না থাকার কারনে গ্রাহকরা ঢাকায় গিয়ে ডকুমেন্ট ও মালামাল বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। বর্তমানে এ আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২শ’ ২০টি দেশে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট ও মালামাল যাচ্ছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য হারে ওমানে যাচ্ছে বাংলাদেশী মহিলাদের হাতের তৈরি টুপি।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু এ অঞ্চল নয়, কম খরচে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মানুষও ফেনীতে এসে বিদেশে ডকুমেন্ট ও মালামাল পাঠায়।”
কেকে/ আরআই