সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
নির্বাচন ও ইসি
তথ্য সুরক্ষায় ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন, তদন্তের দাবি তানভীর জোহার
সংবাদ প্রতিবেদন
প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪০ এএম

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনলাইন আবেদন ব্যবস্থার গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ইসির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই কোনো লগইন বা অনুমোদন ছাড়াই আবেদনকারীদের পূর্ণ তালিকা ও ব্যক্তিগত তথ্য দেখা যাচ্ছিল।

ওয়েবসাইটে সাংবাদিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানাসহ সংবেদনশীল তথ্য উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। শুধু তালিকাই নয়, প্রত্যেক আবেদনকারীর সম্পূর্ণ ফাইলও ডাউনলোড করা সম্ভব ছিল।

এ ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার নগ্ন উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রযুক্তিবিদ ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, এটি কোনো সাধারণ কারিগরি ত্রুটি নয়। ডাটা প্রোটেকশন, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল ও নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া এমন সিস্টেম চালু করা গুরুতর অবহেলা।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাংবাদিকদের আপত্তির পরও কেন এ অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল এবং সিস্টেম বন্ধের সিদ্ধান্তের পর কার অনুমতিতে পুরো ডাটাবেস উন্মুক্ত করা হয়।

তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, এত বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকের তথ্য ইতোমধ্যে কপি, ডাউনলোড বা তৃতীয় পক্ষের হাতে গেছে কি না— সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার প্রদানের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে ইসি। প্রথমবারের মতো অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে সাংবাদিক সমাজের আপত্তির মুখে গত বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কমিশন। এর আগেই প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক আবেদন করেন।

এ বিষয়ে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, শুক্রবার অনলাইন সিস্টেম বন্ধ করা হয়েছিল। কীভাবে এটি আবার উন্মুক্ত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তানভীর হাসান জোহা তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এগুলো হলো— স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক অডিট, কতটুকু তথ্য ফাঁস হয়েছে সে বিষয়ে স্বচ্ছ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আজ সাংবাদিকদের তথ্য ফাঁস হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ভোটার তালিকা বা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য এভাবে উন্মুক্ত হয়, তার দায় কার ওপর পড়বে— সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

কেকে/এমএফ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

নির্বাচন ও ইসি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close