মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
নির্বাচন ও ইসি
নির্বাচনে পূর্ণ সমর্থন ছিল আমেরিকা ও ভারতের
শাহ মোহাম্মদ রনি, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম আপডেট: ১৩.০২.২০২৬ ৯:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমেরিকা ও প্রতিবেশী দেশ ভারতের পূর্ণ সমর্থন ছিল বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার, সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। এতে আমেরিকা ও ভারতের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। এর আগে প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির নজির রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কারচুপি হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার আমলের ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

সূত্র মতে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও ভারত এবার অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিল। যে কারণে দেশের কোনো আসনেই ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর সাহস পায়নি ওই দুটি গোয়েন্দা সংস্থা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে কয়েকটি আসনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছিল। ফলাফল প্রকাশের পর সেসব অভিযোগ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র জানায়, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের কলঙ্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিবারই কমপক্ষে ৭০টি করে আসনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে। এ নিয়ে শীর্ষ দুটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কলকাঠি নাড়ত। ২০২৪ সালের আগে তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সরাসরি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর দায়িত্ব পালন করেন ডাকসাইটে সাবেক আমলা, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা প্রয়াত হোসেন তৌফিক ইমাম (এইচ টি ইমাম)। জনপ্রশাসনে তার আধিপত্য আওয়ামী লীগের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছিল।

তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। দাপুটে সাবেক এই আমলার কথায় উঠবস করতেন বিএনপি-সমর্থক আমলারাও। তার দেওয়া তালিকা অনুযায়ী তিনটি সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেন জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদের সরাসরি ব্যাকআপ দিত ডিজিএফআই ও এনএসআই। পান থেকে চুন খসলেই বিপক্ষের প্রার্থীদের ধরে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে পক্ষে আনা হতো। এমন বহু নজির রয়েছে দেশের সিনিয়র রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে।

জানা যায়, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নয়—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ লজ্জাহীনভাবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করত। বিভিন্ন সময় এর সুযোগ নেয় জাতীয় পার্টি। এই সুযোগে তারা আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে হিস্যা বুঝে নেয় এবং বাংলাদেশের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করে।

তবে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ ও ঐতিহাসিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ৩২ জেলার ৬৫ উপজেলায় ৫০টি সীমান্তঘেঁষা সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে ২৯ জেলার ৪৬টি সংসদীয় আসন এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ৩ জেলার ৪টি আসন। ঢাকা ও বরিশাল ছাড়া বাকি ৬ বিভাগেই রয়েছে সীমান্ত উপজেলা। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থল ও জলপথ ৮ হাজার ২৫২ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে স্থল ও জলপথ ২৭১ কিলোমিটার। সূত্র মতে, সংসদ নির্বাচনে ভারতের সঙ্গে ঘেঁষা সীমান্তগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের প্রতিটি নির্বাচনে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বিভিন্ন গোষ্ঠী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে গোলযোগ সৃষ্টি করত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অঘটন ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন আসন ও খাগড়াছড়ি আসনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এবার ভারতের সেসব গোষ্ঠীর কোনো প্রভাব এবং অনুপ্রবেশ ছিল না বলে সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পেছনে রয়েছে তরুণ প্রজন্মের প্রথম ভোট এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের ভোট। তরুণ প্রজন্মের কাস্টিং ভোটের ৮০ ভাগ এবং আওয়ামী লীগের কাস্টিং ভোটের ৯০ ভাগ বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা দাবি করেছেন। নির্বাচনি ক্যাম্পেইনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা ও মুখপাত্রদের নানা ধরনের মন্তব্যের কারণে নতুন প্রজন্ম ও আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের ভোটে প্রভাব পড়ে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী নতুন প্রজন্ম ও আওয়ামী লীগ-সমর্থক শতাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নির্বাচন   আমেরিকা   ভারত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

নির্বাচন ও ইসি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close