যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার অব্যাহত রেখেছে। তারই অংশ হিসেবে দেশটির বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের উপকূলে এসে পৌঁছেছে।
তবে, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে, কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এসব যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমানও পাঠানো হয়েছে। যার ফলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরানে থাকা নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সাথে নতুন করে ইরান ভ্রমণ না করার পরামর্শও দিয়েছে চীন। এর মধ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত ৯টি দেশ ইরান থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানালো।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইরানে অবস্থিত দূতাবাস এবং কনস্যুলেটগুলো আজ শুক্রবার যৌথ বার্তায় বলেছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় চীনা নাগরিকদের ইরান সফর থেকে বিরত থাকতে হবে। এই বার্তাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম উইচ্যাটে প্রকাশ করা হয়।
যারা ইতোমধ্যে ইরানে আছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে যত দ্রুত সম্ভব দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলে নিজ দূতাবাস কর্মীদের ‘আজই’ ইসরায়েল ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে পাঠানো এক ইমেইলে হাকাবি লিখেছেন, কোনো কর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্যরা যদি ইসরায়েল ছাড়তে চান, তাহলে ‘আজই’ চলে যাওয়া উচিত।
এদিকে,
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মধ্যে তেল আবিবে ফ্লাইট স্থগিত করছে আন্তর্জাতিক একাধিক বিমান সংস্থা। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের ইরান ও ইসরায়েল ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে।
নেদারল্যান্ডের প্রধান বিমানসংস্থা কেএলএম আমস্টারডাম-তেল আবিবে ফ্লাইট স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে তেল আবিবে ফ্লাইট পরিচালনা করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।
পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধে চাপ বাড়াতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হস্তক্ষেপ ও সরকার পরিবর্তনের অজুহাত তৈরি করছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো সামরিক হামলার জবাব তারা দেবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো সীমাবদ্ধতা এলে তার সাথে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি যুক্ত থাকতে হবে।
সূত্র : চ্যানেল ১২, টাইমস অব ইসরায়েল, গ্লোবাল টাইমস
কেকে/এমএ