মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) পুকুরপাড়ে বিরল প্রজাতির অনিন্দ্য সুন্দর ‘নাগলিঙ্গম’ গাছটি এখন ফুলে-ফলে পল্লবিত।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিটিআরআই ভবনের পুকুরের পাশে ৩৩ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃক্ষটি ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে পুরো ইনস্টিটিউট এলাকাকে সকাল-বিকাল সৌরভে মুগ্ধ করছে। অদ্ভুত সুন্দর এ ফুলের পরাগচক্র দেখতে অনেকটা সাপের ফণার মতো; হয়তো এই কারণেই এর নাম নাগলিঙ্গম।
নাগলিঙ্গম দেশের দুর্লভ একটি বৃক্ষ। এর গোড়া ফুঁড়ে বের হওয়া লম্বা লতার মতো ছোট ছোট হাজারও কুঁড়ি থেকে ফুল ও গোলাকার ফল ধরেছে। খয়েরি রঙের এসব ফল দেখতে অনেকটা শিশুদের ফুটবলের মতো।
এই গাছের বিশেষত্ব হচ্ছে, একই সময়ে গাছে ফুল ও ফল শোভা পায়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীরা এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।
নাগলিঙ্গম গাছে সাঁটানো ছোট্ট সাইনবোর্ড থেকে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ আল হোসেন গাছটির চারা রোপণ করেন।
বৃক্ষটির একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, শাখার বদলে ফুল ফোটে গাছের গুঁড়িতে। প্রস্ফুটিত ফুলের পরাগ কেশর অবিকল সাপের ফণার মতো। মার্চ মাস থেকে এই দৃষ্টিনন্দন ফুল ফুটতে শুরু করে।
নরসিংদী থেকে আসা কলেজছাত্রী তামান্না নুসরাত বলেন, ‘‘এমন ফুল এর আগে কখনো দেখিনি। গাছের গুঁড়ি থেকে ফুল ফোটা সত্যিই অসাধারণ।’’
ঢাকা থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী লাবিব আবরার বলেন, ‘‘অনিন্দ্য সুন্দর এই গাছের সৌন্দর্য সত্যিই চমৎকার।’’
নাগলিঙ্গমের সৌন্দর্যে অভিভূত উদ্ভিদপ্রেমী দ্বিজেন শর্মা তার ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে লিখেছেন, ‘‘আপনি বর্ণে, গন্ধে, বিন্যাসে অবশ্যই মুগ্ধ হবেন।’’
এই বৃক্ষের আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ মণ্ডলে। এটি একটি চিরহরিৎ বৃক্ষ, যা বছরে একাধিকবার নতুন পাতা গজায় ও ফুল ফোটায়।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক উদ্ভিদবিজ্ঞানী ড. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘‘পৃথিবীতে এ গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। নাগলিঙ্গমের ইংরেজি নাম ‘ক্যানন বল’। এই ফুলের ঔষধি গুণও রয়েছে। এর ফুল, পাতা ও বাকল থেকে তৈরি ওষুধ নানা ধরনের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।’’
তিনি আরও জানান, ‘‘নাগলিঙ্গম ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর ফলগুলো বেলের মতো শক্ত ও নয় মাসের মধ্যে পরিপক্ব হয়। প্রতিটি ফল থেকে প্রায় ৬৫টি বীজ পাওয়া যায়, যা থেকে সহজেই চারা জন্মানো সম্ভব।’’
কেকে/এসএ