ইরানের সব বন্দর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে তারা। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ জারির ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (১২ এপ্রিল) মার্কিন সময় সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে ‘ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানের চেষ্টা করা সব জাহাজের ওপর’ এই অবরোধ প্রযোজ্য হবে। এতে উপসাগর এবং ওমান উপসাগরসহ ইরানের উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী সব দেশের জাহাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তবে সেন্টকম জানিয়েছে, ‘ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরসমূহে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ব্যাহত করা হবে না।’ এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের হুমকির তুলনায় কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ এর আগে পুরো প্রণালি অবরোধ এবং ইরানকে টোল প্রদানকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেছিলেন তিনি।
মার্কিন অবরোধের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান।এর ফলে এই জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
তবে ইরান নিজস্ব জাহাজ চলাচল অব্যাহত রেখেছে। অন্যান্য দেশের জাহাজকেও সীমিত আকারে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। সংঘাত শেষ হলে টোল ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
ট্রাম্পের অবরোধের হুমকির জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, কোনও সামরিক জাহাজ ইরানের জলসীমার কাছে এলে তা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
কেকে/এলএ