শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬,
৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু      রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ মির্জা ফখরুলের      প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত      কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন শপথ নেওয়া ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী      
গণমাধ্যম
সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা
ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং কমাবে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত প্যাকেট খাবার হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্যাকেটজাত খাবারের সামনের অংশে সহজ, স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। 

১৮-১৯ মে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং : প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক এই কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত ২৭ জন সাংবাদিক অংশ নেন। 


কর্মশালায় জানানো হয়, অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার এবং পানীয় অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে মারা যায়, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ; এর মধ্যে ১৯ শতাংশই অকাল মৃত্যু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই ব্যাপক মৃত্যুর অন্যতম প্রতিরোধযোগ্য কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

বক্তারা বলেন, সাধারণভাবে প্যাকেটজাত খাবারকে নিরাপদ বা স্বাস্থ্যকর মনে করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ২০২৫ সালে ৯৭৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক, কিশোর-কিশোরী ও শিশুদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত প্রক্রিয়াজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার শনাক্ত করতে দেশব্যাপী একটি ক্রস-সেকশনাল জরিপ করা হয় এবং এতে দেখা যায়, প্রায় ৯৭ শতাংশ উত্তরদাতা সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার খেয়ে থাকেন। গবেষণায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৪টি খাদ্য ক্যাটাগরির আওতায় বিশ্লেষণ করা ১০৫টি প্রক্রিয়াজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ৬৩ শতাংশে উচ্চমাত্রায় লবণের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের আরেকটি গবেষণায় দেশে প্রচলিত ২৪টি ব্র্যান্ডের ৯ ধরনের প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার পরীক্ষা করে বেশিরভাগ খাবারেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পরিমাণ চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া গেছে। অনেক পণ্যের প্যাকেটে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও লবণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এফওপিএলকে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে সুপারিশ করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশ এফওপিএল ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মধ্যে ১০ টিতে সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল বাধ্যতামূলক। এফওপিএল বাস্তবায়নের ফলে এসব দেশে ভোক্তা সচেতনতা বেড়েছে এবং উৎপাদকরাও পণ্যের মান উন্নত করেছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে ভোক্তা সচেতনতা তৈরি করতে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থা প্রচলনের কাজ চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে, দেশে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে।”

জেপিজিএসপিএইচের সেন্টার ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ অ্যান্ড নিউট্রিশনের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, “এফওপিএল ভোক্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে থাকা অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং ক্ষতিকর চর্বি শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে সহায়তা করে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার (ডায়েট রিলেটেড রিস্ক ফ্যাক্টর) সামিনা ইসরাত বলেন, “ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালু করা খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-সুপারিশকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়-সাশ্রয়ী উদ্যোগ, যা জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনে ভূমিকা রাখবে।”

জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল ব্যবস্থা দেশের ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

কর্মশালায় আলোচক ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্সের (আত্মা) কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং   অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

গণমাধ্যম- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close