কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ৩৩ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগসংবলিত সংবাদ প্রকাশের পর এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তার নির্বাচনি এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংবাদটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সংবাদটিকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে দাবি করছেন।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এম এ সালাম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটিকে “হাস্যকর” বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “যারা এই সংবাদ প্রকাশ করেছে তারা রপ্তানি বাণিজ্য সম্পর্কে যেমন সঠিক ধারণা রাখে না, তেমনি ব্যক্তি শরীফুল আলম, রাজনীতিবিদ শরীফুল আলম এবং ব্যবসায়ী শরীফুল আলম সম্পর্কেও তাদের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। একজন ব্যক্তি যিনি প্রতিবছর ৩৩ কোটি টাকারও বেশি যাকাত প্রদান করেন, তিনি কেন ৩৩ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করবেন—এ প্রশ্নই যথেষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের অর্থায়নে সম্প্রতি কিছু অনলাইন মাধ্যম গড়ে উঠেছে, যাদের প্রধান কাজ বিএনপির পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে তাদের সম্মানহানি করা এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা করা। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নিউজ পোর্টালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নিজেদের কোনো স্বাধীন তথ্যসূত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। বরং অন্য একটি পত্রিকার প্রতিবেদনের সূত্র উল্লেখ করেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই পত্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান বলেন, “শরীফুল আলম একজন ত্যাগী, সৎ, বিনয়ী ও জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতা। দীর্ঘ ১৭ বছর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন, কিন্তু কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। তার বিরুদ্ধে এমন ত্রুটিপূর্ণ ও একপাক্ষিক সংবাদ আমি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।”
তিনি আরও বলেন, “সংবাদটিতে ইসলামি ব্যাংক মতিঝিল শাখার কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য নেই, বিএফআইইউ-এর কোনো তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য নেই এবং যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের বক্তব্যও নেওয়া হয়নি। সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ না করেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।”
এম এ হান্নানের দাবি, ভৈরব-কুলিয়ারচর ও কিশোরগঞ্জের উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের নিরলস ভূমিকার কারণে একটি কুচক্রী মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।