সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নে পৌঁছালে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সফরকে ঘিরে কোনো স্বাগত তোরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন নির্মাণ করা হয়নি। সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে স্বাগত জানান।
সফরের শুরুতে বাটাজোর ইউনিয়নের নবখননকৃত সরিকল–বাটাজোর খালের পাড়ে নারিকেল ও নিমগাছের চারা রোপণ করে ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন খালের দুই পাড়ে প্রায় আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়।
বৃক্ষরোপণ শেষে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গাছ রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একটি নবজাতক শিশুর মতোই প্রতিটি চারার যত্ন নিতে হবে। পরিবেশ বাঁচলে দেশ বাঁচবে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। এটি শুধু একটি কর্মসূচি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ।”
পরে বাটাজোর বাজারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কয়েকজন নারী উপকারভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি পরিবারের টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারী প্রধানদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং প্রান্তিক পরিবারের জীবনমান উন্নত হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় যাতে কোনো পরিবার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বরিশাল জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে আরও একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং একটি সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।